দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিধ্বংসী হামলা: ধ্বংসের মুখে ইসরায়েলের গর্ব খ্যাত ১০০টি মেরকাভা ট্যাংক

৩৭

লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ধারাবাহিক হামলায় ইসরায়েলের গর্ব হিসেবে পরিচিত ‘মেরকাভা’ (Merkava) ট্যাংকগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

 

বিভিন্ন সামরিক সূত্র ও ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ইসরায়েলের প্রায় ১০০টি আধুনিক মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বর্তমানে সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে ‘মেরকাভা ম্যাসাকার’ বা মেরকাভা হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

 

ট্যাংক ধ্বংসের পরিসংখ্যান:
হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, গত বুধবার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ২১টি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। ২রা মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০টি ট্যাংক হিজবুল্লাহর নিশানায় পরিণত হয়েছে।

এই হামলাগুলো দক্ষিণ লেবাননের দেবেল, আলকানতারা এবং তাইবে-র মতো কৌশলগত এলাকাগুলোতে চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ড্রোন এবং গাইডেড অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল ব্যবহার করে এই হামলাগুলো চালাচ্ছে।

 

ব্যয়বহুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে ইসরায়েল:
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মেরকাভা ট্যাংকের নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার এবং এটি তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। বিপরীতে, হিজবুল্লাহ মাত্র কয়েক হাজার ডলার মূল্যের গাইডেড মিসাইল এবং ড্রোন ব্যবহার করে এই বিশাল মূল্যের সামরিক সম্পদ ধ্বংস করছে।

এই বিপুল অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা একে ‘লো-কস্ট’ বনাম ‘হাই-কস্ট’ যুদ্ধের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

 

তীব্র লড়াই ও প্রাণহানি:
সীমান্তে কেবল ট্যাংক ধ্বংসই নয়, সম্মুখ সমরেও প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ইসরায়েলের এলিট গোলানি ব্রিগেডের ২১ বছর বয়সী স্টাফ সার্জেন্ট ওরি গ্রিনবার্গ নিহত হয়েছেন।

এছাড়া হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলের নাহারিয়া শহরে এক বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে রকেট পড়ায় ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

বর্তমান পরিস্থিতি:
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা এক দিনেই ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে রেকর্ড ৯৫টি পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেছে। এর জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্রাগার ধ্বংস করার দাবি করেছে।

গোলানি ব্রিগেড দাবি করেছে যে তারা হিজবুল্লাহর ২০০টিরও বেশি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সামরিক পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতিকে ২০০৬ সালের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, যেখানে হিজবুল্লাহর কঠোর প্রতিরোধের মুখে ইসরায়েলি ট্যাংক বাহিনী বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল।

তথ্যসূত্র:টিওআই