অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৩৪

গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬-এর এক বিশেষ অধিবেশনে ‘ ন্যাশনাল কমিটমেন্টস/পিলিডজ অন কমব্যাটিং ফ্রড’  শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মানব পাচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ সোমবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে স্থানীয় সময় বিকালে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মানি লন্ডারিং ও আর্থিক জালিয়াতি রোধে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। তিনি ব্যাংকিং, অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট এবং জুয়েলারি খাতকে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এসব খাতে নজরদারি আরো জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই খাতগুলোতে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।

আর্থিক অপরাধ দমনে বাংলাদেশের শক্তিশালী আইনি কাঠামোর উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২’ এবং ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা আইন ২০১২’-এর সর্বোচ্চ ও কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক আইনি সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিগত অপরাধ মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত অপরাধ শনাক্তকরণ এবং দমনে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো অপরাধীর জায়গা নেই। আমরা কেবল অভ্যন্তরীণভাবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও প্রোটোকলগুলো অনুসরণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে অপরাধ দমনে আমাদের অঙ্গীকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সেশনে উপস্থিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন কৌশলের প্রশংসা করেন।