নির্বাচনের ৩ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, যা বললেন উপদেষ্টা

৩১

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আগামীকাল বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই চুক্তি।

সরকারের বিদায়বেলায় এমন বড় এক চুক্তি নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন ওঠার বড় কারণ, চুক্তির খসড়ায় কী আছে, তা কেউ জানে না। চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগেই নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ সই করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এছাড়া, বিদায়লগ্নে এই চুক্তির যৌক্তিকতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এর কয়েক দিনের মধ্যেই বিদায় নেবে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনে বিজয়ী দল গঠন করবে নতুন সরকার। চুক্তি বাস্তবায়নের দায় পড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপরই।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্তাবলি ও অন্যান্য বিষয় জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখতেই নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করছে বাংলাদেশ। এই গুরুত্বপূর্ণ বাজার ধরে রাখতে এবং সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কিনতে ব্যয় হবে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে মোট ৪৭টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে আপাতত ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ সময় স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষায় থাকা নতুন এ বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরও কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শেখ বশিরউদ্দীন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ওপরে (যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে) ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যেটা আমরা আলোচনা করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম, যদি আমাদের এই চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যে, আমরা ২০ শতাংশের চেয়েও কম পেতাম। দুঃখজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলী সারা দুনিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যে চুক্তি হবে, আমরা চেষ্টা করছিলাম শুল্ক আরও কত কমানো যায়। কতটুকু কমবে আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না বা চাচ্ছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখবো। আমরা ওভারঅল শুল্ক কমানোর চিন্তা করছি তা নয়, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে যে মূল পণ্য গার্মেন্টস- এই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়। আমরা এখনও সেই প্রচেষ্টায় আছি।