ঢাবিতে উপদেষ্টা সাখাওয়াত, বিডার আশিকসহ কয়েকজনের কুশপুত্তলিকা দাহ

৩২

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগের প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে কর্মসূচি পালন করেছে ‘সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সমাজ’। সেখানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ আখ্যা দেন।

তাদের ভাষায়, এ ধরনের প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীরা উন্নয়ন ঋণ, নীতি পরামর্শ ও করপোরেট চুক্তির আড়ালে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উচ্চ ঝুঁকির ঋণ, অসম চুক্তি ও কৌশলগত বিনিয়োগে জড়িয়ে ফেলেন। এতে দেশের কৌশলগত সম্পদ, অর্থনৈতিক নীতি এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কর্মসূচিতে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মুহিউদ্দিন রাহাত বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চুক্তিতে ইজারা দিতে ঠিক নির্বাচনের আগমুহূর্তে সরকার অতিরিক্ত তোড়জোড় করছে। যেন এই বন্দর হস্তান্তর না হলে সরকারের মিশন ভিশনই ব্যর্থ হয়ে যাবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সরকারের ভেতরে চার ব্যক্তি বিদেশি কোম্পানির কমিশন নিয়ে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে দিতে চাইছেন। এই চারজন চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়ার জন্য নানা ধরনের লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী বলেন, এখানে শুধু বন্দর নয়, পাহাড়ও জড়িত। পাহাড়ের ভূমি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তাই সরকারকে দ্রুত সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও দুর্বল হবে। এনসিটি ইজারা পরিকল্পনা বাতিল না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।