জেলা প্রশাসক: একটি প্রতিষ্ঠান

১১২

জেলা প্রশাসক (DC) কোনো ব্যক্তি বা পদবি নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠান। একটি জেলার চোখ, নাক ও কান হলেন জেলা প্রশাসক। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা কালেক্টর, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির প্রধান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং নির্বাচনের সময় রিটার্নিং অফিসার।

শত বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে “ডিসি সাহেব” আস্থার প্রতীক। রাজনীতিবিদ, পুলিশ ও বিভিন্ন পেশাজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে ডিসিই সর্বশেষ ভরসা।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক এবং তাঁর স্ত্রী থাকেন জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী হিসেবে। অনেক জেলায় ডিসিরাই প্রেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রশাসনিক ক্ষমতা কম থাকায় ঢাকার ডিসিকে এতটা চোখে পড়ে না। কিন্তু মহানগরের বাইরে প্রতিটি জেলায় তিনিই প্রধান নির্বাহী। স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে ঢাকার ডিসিই সরকার প্রধানের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম গ্রহণ করেন। ঢাকাসহ পুরনো ১৯ জেলার ডিসি বাংলো দেখে বোঝা যায় ব্রিটিশরা ডিসিদের কতটা গুরুত্ব দিতেন।

উপজেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি ও মুখপাত্র হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থারও প্রধান সমন্বয়কারী। নির্বাচনের সময় তিনি হয়ে যান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিভাগীয় কমিশনাররা একটি বিভাগের সর্বোচ্চ সরকারি কর্মকর্তা। তিনি তার বিভাগের সকল জেলা প্রশাসকের রিপোর্টিং বস। নির্বাচনের সময় মেট্রোপলিটন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশ আমলে সার্কিট হাউজ তৈরি হয়েছিল বিভাগীয় কমিশনারদের সার্কিট ভিজিটের সুবিধার জন্য। পরে তা সরকার ও রাষ্ট্রের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।

একটি জেলায় DC ও UNO যদি সৎ, যোগ্য ও দক্ষ হন, তাহলে সেই জেলার সাধারণ মানুষও তার সুফল পেয়ে থাকে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে ফিরবে, এই প্রত্যাশা সবার। সেই লক্ষ্য অর্জনে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জনবান্ধব হয়ে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

লেখক: চৌধুরী দৌলত মুহাম্মদ জাফরী, প্রেসিডেন্ট, অল ব্রডকাস্টার্স কমিউনিটি