ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ফের সুযোগ পেলেন ছাত্রলীগ কর্মী

সিলেটে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ছাত্রলীগ কর্মী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে বাদ পড়া চারজনের একজন শাহ আলম হৃদয়কে ফের শুমারির কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির গণনাকারীর প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে। প্রশিক্ষণের কয়েকটি ছবিও নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফেসবুকে ছবিগুলো দেখে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাদ দেওয়া হলে তাকে আবার কীভাবে সুযোগ দেওয়া হলো?

এর আগে গত ১৩ আগস্ট সকালে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চার গণনাকারীকে ফোন করে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাদের ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে অংশ না নিতে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের দাবি, ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং নিয়োগকে কেন্দ্র করে মব বা বিরূপ পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল।

বাদ পড়া চারজন হলেন— শেখ ইমন আহমেদ, ইমরান আলী পাঠান, অপুর রায় চৌধুরী ও শাহ আলম হৃদয়। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে ফের যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন শাহ আলম হৃদয়।

অভিযোগ রয়েছে, শেখ ইমন আহমেদ আন্দিউরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এদিকে, ইমরান আলী পাঠান উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি মাধবপুর পৌরসভার গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়া, অপুর রায় চৌধুরী আদাঐর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, শাহ আলম হৃদয় ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হন। তিনি উপজেলা ও চৌমুহনী ইউপির ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে অনন্য অবদানের জন্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র প্রতিনিধি হিসাবেও তাকে পদ দেওয়া হয় । তবে হৃদয়ের দাবি, তিনি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন এবং এতিমের সঙ্গে অন্যায় করলে আল্লাহ বিচার করেন।

ফের সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে শাহ আলম হৃদয় বলেন, আমি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নই। জুলাইয়ে রাজপথে ছিলাম। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, আমাকে বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

এর আগে তিনি বলেছিলেন, মেধা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাকে বাদ দেওয়ার যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন এবং শুমারি কার্যক্রমে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দীন বলেন, প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মব-আতঙ্ক থেকে প্রশাসনকে মুক্ত থাকতে হবে। এত কিছু যদি করতেই হয়, তাহলে পরীক্ষা নেওয়া হলো কেন?

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বাছাই কমিটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শাকিফ ইশমাম চৌধুরীর কাছে চারজনকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনিও মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

চারজনের মধ্যে একজনকে পুনরায় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।