১৭তম বার বর্ষসেরা ফুটবলারের তালিকায় মেসি

আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে বসবে ব্যালন ডি’অরের এবারের আসর। ব্যক্তিগত সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় সতেরোতম বারের মতো জায়গা করে নিয়েছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি।

বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জয়ের লড়াইয়ে অনুমিতভাবে আছেন হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামালের মতো তারকারা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেছে ফরাসি ফুটবল ম্যাগাজিন ‘ফ্রান্স ফুটবল’ কর্তৃপক্ষ। বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের লড়াইয়ে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে তারা।

রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী আর্জেন্টাইন জাদুকর গেল দুইবার তালিকায় জায়গা পাননি।

টানা তৃতীয়বারের মতো সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই আরেক মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যিনি এই পুরস্কার জিতেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবার। সর্বোচ্চ ১৮ বার মনোনয়ন পাওয়ার রেকর্ড তার।

৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসি ছাড়াও আর্জেন্টিনা দলের আরো এক সদস্য রয়েছেন। ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জায়গা করে নিয়েছেন লাউতারো মার্তিনেজ।

সংক্ষিপ্ত তালিকায় প্রত্যাশিতভাবেই রয়েছেন ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী উসমান দেম্বেলে। এছাড়া জায়গা করে নিয়েছেন হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম ও রদ্রির মতো বিশ্বকাপ মাতানো তারকারা।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসি দেখিয়েছেন, তিনি এখনো বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে আটটি গোল করার পাশাপাশি ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুটও ক্ষণিকের জন্য নিজের করে নিয়েছিলেন আলবিসেলেস্তে দলপতি।

মেসিকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম শক্ত দাবিদার মনে করা হলেও বিশ্বকাপে রদ্রি ও লামিন ইয়ামাল নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিয়েছেন।

তাছাড়া হ্যারি কেইনের কথা না বললেই নয়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় যেমন তাণ্ডব চালিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারলেও ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেইন এখনো বাজির দরে সবার চেয়ে এগিয়ে। মূলত গত মৌসুমে তাঁর অসাধারণ গোলসংখ্যার কারণেই তিনি এই অবস্থানে রয়েছেন।

ইউরোপের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১টি গোল করেন কেইন, যার ওপর ভর করে বায়ার্ন মিউনিখ ঘরে তোলে ঘরোয়া ডাবল।

কিলিয়ান এমবাপ্পেও এই দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই আছেন। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে পাওয়া তাঁর ‘গোল্ডেন বুট’ শিরোপাটাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। টুর্নামেন্টে ১০টি গোল করে তিনি প্রথমে মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং পরে লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তবে মেসি ও এমবাপ্পে—উভয়ের জন্যই বিশ্বকাপে এককভাবে ‘গোল্ডেন বল’ উঁচিয়ে ধরতে না পারাটা কিছুটা হতাশার ছিল।

তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন যারা— লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি/আর্জেন্টিনা), জোয়াও নেভেস (পিএসজি/পর্তুগাল), মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন/ফ্রান্স), উইলিয়াম পাচো (পিএসজি/ইকুয়েডর), হুলিয়ান কিনিয়োনেস (আল কাদসিয়া/মেক্সিকো), ডেকলান রাইস (আর্সেনাল/ইংল্যান্ড), রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি/বার্সেলোনা/স্পেন),জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ/ইংল্যান্ড), পাউ কুবারসি (বার্সেলোনা/স্পেন), উসমান দেম্বেলে (পিএসজি/ফ্রান্স), মার্ক কুকুরেয়া (চেলসি/রিয়াল মাদ্রিদ/স্পেন), লুইস দিয়াজ (বায়ার্ন/কলম্বিয়া), ব্রুনো ফার্নান্দেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/পর্তুগাল), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল/ব্রাজিল), আর্লিং হলান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি/নরওয়ে), হ্যারি কেইন (বায়ার্ন/ইংল্যান্ড), আশরাফ হাকিমি (পিএসজি/মরক্কো), খিচা কাভারেস্কাইয়া (পিএসজি/জর্জিয়া), লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন), সাদিও মানে (আল নাসর/সেনেগাল), মার্কিনিওস (পিএসজি/ব্রাজিল), লাওতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান/আর্জেন্টিনা), কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স), নুনো মেন্দেস (পিএসজি/পর্তুগাল),  ফাবিয়ান রুইজ (পিএসজি/স্পেন), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল/ফ্রান্স), ফেরান তোরেস (বার্সেলোনা/পিএসজি/স্পেন), দায়োত উপামেকানো (বায়ার্ন/ফ্রান্স), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ/ব্রাজিল) ও ভিতিনিয়া (পিএসজি/পর্তুগাল)।