কঙ্গোতে ইবোলা মহামারিতে প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়াল ৩ হাজার

মধ্য আফ্রিকান দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে (ডিআরসি) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে ছড়ানো এই মহামারিতে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই তিন হাজার অতিক্রম করেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানের বরাতে বিশ্বখ্যাত তথ্য সংস্থাগুলো এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইবোলা আক্রান্ত হিসেবে মোট ৬ হাজার ১৮৬ জনকে শনাক্ত করা গেছে, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৭ জন। ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে বর্তমানে এটি কঙ্গোর ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ইবোলা ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক ইতিহাসেও এটিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতুরি প্রদেশে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দিলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রাদুর্ভাবের সূচনা মূলত গত জানুয়ারি মাসেই ঘটেছিল। কঙ্গো সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা বজায় থাকলেও ভাইরাসটি ইতিমধ্যে দেশের ছয়টি প্রদেশে বিস্তৃত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইবোলায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ শতাংশ মৃত্যুই ঘটছে কোনো ধরনের হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দুর্বল নজরদারি ব্যবস্থা, স্থানীয় নিরাপত্তা শঙ্কা এবং চিকিৎসায় অনীহা, যা শুরুতেই রোগী শনাক্ত ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশাল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া প্রজাতিটি হলো ‘বুন্দিবুগিও’। এই সুনির্দিষ্ট ইবোলা প্রজাতির প্রতিরোধে শতভাগ কার্যকরী কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা টিকা উদ্ভাবিত হয়নি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বর্তমানে কঙ্গোয় প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের ‘এরভেবো’ নামক একটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা যৌথভাবে বুন্দিবুগিও প্রজাতির প্রতিরোধী টিকা তৈরির দৌড় অব্যাহত রেখেছে।