মিয়ানমারে আটক ১৮ বাংলাদেশিকে ফেরত আনল বিজিবি

বঙ্গোপসাগরনাফ নদী থেকে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া ২৪ জেলেকে বিজিবির প্রচেষ্টায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবংজন রোহিঙ্গা নাগরিক।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিজিবির দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সীমান্ত যোগাযোগের পর নাফ নদীর শূন্যরেখা থেকে তাদের গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয় বলে নিশ্চিত করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

দেশে ফিরে আসা জেলেরা বিজিবির কাছে বন্দিদশায় নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। জেলেরা জানান, মিয়ানমারে আটকের পর থেকেই তাদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। দিনে মাত্র দুবেলা সামান্য খাবার দেওয়া হতো এবং জোরপূর্বক অবকাঠামো নির্মাণ, কৃষিকাজ ও মাটি কাটার মতো কঠিন শ্রমে বাধ্য করা হতো। কাজের গতি সামান্য কমলেই নেমে আসত মারধর। ফেরত আসা এসব জেলের কেউ আট মাস, আবার কেউ দীর্ঘ দুই বছর ধরে সেখানে বন্দি ছিলেন।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনেক জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার জলসীমায় ঢুকে পড়েন। তখন তাদের আটক করে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, মানবিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৪৮ জন জেলেকে মুক্ত করে দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। আজ ফেরত আনা ২৪ জনকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৪৩৪ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন। এখনো বিজিবির জোর তৎপরতা সত্ত্বেও বিদেশের মাটিতে ৮৬ জন জেলে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদেরও দ্রুত স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।