আন্দোলকারীরা ‘বর্জ্যের প্রজন্ম’, তাদের ভিডিও ‘বমি উদ্রেককারী’: কঙ্গনা

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে হওয়া ৩৬ দিনের আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পরপরই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিষোদ্গার শুরু করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গটার’ (বর্জ্যের প্রজন্ম) হিসেবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি যন্তর মন্তরের প্রতিবাদের ভিডিওগুলোকে ‘বমি উদ্রেককারী’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তবে সংসদ সদস্য হিসেবে একজন নারীর তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে এমন কুরুচিকর ও আপত্তিকর শব্দচয়ন নিয়ে বিনোদন অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারাও এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের নিট পরীক্ষা জালিয়াতিসহ বিভিন্ন দাবির মুখে গত ২৫ জুলাই সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সিজেপি ও সুশীল সমাজের ৩৬ দিনব্যাপী আন্দোলন স্থগিত হয়। এরপরই সোমবার (২৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে কঙ্গনা যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের ধারণকৃত ভিডিওকে ‘নোংরামি, আবর্জনা ও কদর্যতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি লেখেন, জীবনে এক জায়গায় এতটা কদর্যতা কখনো দেখিনি। জেন-জি প্রজেক্টের এই রিলগুলো দেখলে বমি আসে।

এদের কথা বলার ধরন ও ব্যবহৃত ভাষা এতটা বাজে যে প্রতিটা ফ্রেমে সবকিছু একসঙ্গে বিরক্তির সৃষ্টি করে। এরা কীভাবে বড় হচ্ছে আর কে এদের জন্ম দিচ্ছে? তিনি আরও যোগ করেন, ভারতে সংস্কৃতি ও শালীনতায় ভরপুর বৈচিত্র্যময় মানুষ বসবাস করে, অথচ নিজেদের ‘কাকরোচ’ বলে পরিচয় দিয়ে এরা দুনিয়ার সামনে কেবল নিজেদের নোংরামি ও বর্জ্য তুলে ধরছে। এই রিলগুলো দেখে তিনি মানসিক আঘাত পেয়েছেন এবং ডিজিটাল ডিটক্সের প্রয়োজন বোধ করছেন বলেও জানান।

পৃথক আরেকটি পোস্টে কঙ্গনা আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণীদের উদ্দেশ করে বলেন, আন্দোলনকালীন তাদের আচরণ ছিল সবচেয়ে বেশি ন্যক্কারজনক।

তিনি তাদের প্রথাগত পারিবারিক সংস্কৃতির বাইরে ‘ওয়েস্টার্নাইজড’ বা পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুসারী উল্লেখ করে ‘জেনারেশন গটার’ আখ্যা দেন। কঙ্গনা আরও দাবি করেন যে, এই নারীরা পারিবারিক দায়িত্ব নেওয়ার অযোগ্য এবং মা-বাবার উপার্জনের ওপর ভিত্তি করে মাদক, অ্যালকোহল ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনকে স্বাধীনতা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তার মতে, দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা ছাড়া এমন স্বাধীনতা কোনো প্রকৃত স্বাধীনতা নয়, বরং তা সমাজকে বিকৃত করে তোলে।

বিতর্ক বাড়ার পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কঙ্গনা তার আগের মন্তব্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে নতুন একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর সাধারণ মানুষের হামলার ঘটনা সমর্থন করে নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের উল্লেখ করেন।

তিনি লেখেন, সাধারণ মানুষের কাছে মারধর ও গালিগালাজ খাওয়া আন্দোলনকারীদের বোঝা উচিত যে, আপনি গালি দিলে গালি শোনার মানসিকতাও থাকতে হবে। আপনি যদি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেন, তবে জনগণও আপনার ক্ষতি করবে। প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। পড়াশোনা করে এই সাধারণ কার্যকারণ শিখতে না পারলে এখন হাতেনাতে শিখতে হবে।

কঙ্গনার এসব বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনার ঝড় ওঠে। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেত্রী রেণুকা চৌধুরী ও সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ী কঙ্গনার তীব্র সমালোচনা করেন। রেণুকা চৌধুরী বলেন, সরকারের কাছ থেকে একটু প্রশংসা পাওয়ার জন্য একজন নারী হয়ে এমন কুরুচিকর কথা লেখা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আপনি যখন এগুলো লিখছেন, তখন বলতে হয় যুবসমাজ আপনার থেকেই এসব শিখছে। আমি মনে করি খুব জলদিই তাকে এর পরিণাম ভুগতে হবে।

অন্যদিকে ইমরান প্রতাপগড়ী বলেন, কঙ্গনার এই অসংবেদনশীল কথার যোগ্য জবাব দেশের তরুণ ও জেন-জি প্রজন্ম নিজেই দিয়ে দেবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের অনেকেই কঙ্গনাকে চরম ভণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও তিনি শাহীনবাগ আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং অভিনেত্রী উর্মিলা মাতোন্ডকারকে নিয়ে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। সাধারণ মানুষের অধিকারের আন্দোলনকে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা কঙ্গনার পুরোনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেটাগরিকরা।

সূত্র: দ্য হিন্দু