রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানিতে মুন্সীগঞ্জে গেলেন বাবা-মা

৩২

পল্লবীতে স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ। হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে আজ শুক্রবার মিরপুর সেকশন-১১ এ রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট ছোট সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২২ মে) বেলা ১১টার পর থেকে বাসার সামনের গলিতে ভিড় বাড়ে। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড। পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ।

এক নারী বলেন, “নিজের সন্তান নিয়ে এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে কেউ মারতে পারে না। দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে শিশুদের নিরাপত্তা থাকবে না।”

সন্তান হারানোর শোকে নির্বাক রামিসার মা-বাবা। দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার সময় বাসার সামনে কান্না আর সান্ত্বনায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

স্বজনরা জানান, রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুদিন আগে মেয়ের জন্য বোরকা কিনেছিলেন, সেটা আর পরা হলো না রামিসার।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না কৌশলে রামিসাকে রুমে নেয়। সাড়ে ১০টার দিকে মা খোঁজাখুঁজি করে আসামির রুমের সামনে জুতা দেখেন। দরজা ভেঙে ঢুকে খাটের নিচে মস্তকবিহীন মরদেহ ও বালতিতে মাথা পাওয়া যায়।

স্বপ্না জানায়, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করতে মাথা কাটে, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে খাটের নিচে রাখে। পরে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালায়।

এ ঘটনায় বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা মামলা করেন। সোহেল, স্ত্রী স্বপ্না ও অজ্ঞাত একজনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যার পর স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। সোহেলকে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোহেল স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক।

পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে টুকরো করে সোহেল। চিৎকার শুনে পরিবার গেলেও ততক্ষণে লাশ লুকিয়ে ফেলে সে। টয়লেটের বালতি থেকে মাথা উদ্ধার হয়।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার রাত ৯টায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরে জানাজা হয় রামিসার।