গাজীপুরে ৫ খুন: মেহেরপুরে আসামি ফোরকানের মোবাইল ফোন উদ্ধার

২৭

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, সন্তান, শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার আসামি ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন মেহেরপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফোরকানের বেঁচে থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

গত ৮ মে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্ৰামে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে তার ভাড়াটিয়া ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), মাদ্রাসার পড়ুয়া তাদের বড় মেয়ে মীম খানম (১৫), মেজ মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮) ও ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়াকে (২২) হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের পাইককান্দি এলাকার বাসিন্দা ও নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা কাপাসিয়া থানায় ফোরকানকে প্রধান আসামি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, পাঁচ খুনের পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেপ্তারের জন্য  তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের নিজ এলাকায় এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে তিনি সীমান্ত পার হতে না পারেন। এরপর মেহেরপুর জেলায় এক বাসের হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নামছেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হাতের ব্যাগ ও মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে রেলিংয়ের ওপর উঠে নদীতে লাফ দেন।

তিনি আরো বলেন, সিসিটিভি ফুটেছে ওই ব্যক্তির মুখ চেনা যায় না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তার পরিবার ধারণা করছে, নদীতে লাফ দেওয়া ব্যক্তি ফোরকান হতে পারে, কিন্তু নিশ্চিত নয়।

পুলিশ সুপার আরো জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেন ফোরকান। এক আত্মীয় মারা মারা গেছেন বলে প্রাইভেটকার ভাড়া করেন। তবে ছবি দেখালেও ফোরকানকে চিনতে পারেননি তারা।