পদত্যাগের চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

২৭

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নিজ দলের এমপিরাই তার পদত্যাগ দাবি করছেন।

সোমবার (১১ মে) ক্যাবিনেটের শীর্ষ মন্ত্রীরা তাকে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের জন্য চাপ দিয়েছেন। একইসঙ্গে লেবার পার্টির ৭০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান অস্থিরতা কাটাতে একটি সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। জন হিলি এবং ডেভিড ল্যামি পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ পথ খোঁজার বিষয়ে স্টারমারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে রিচার্ড হার্মার ও স্টিভ রিডের মতো কয়েকজন মন্ত্রী এখনও স্টারমারকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

নিজ দলের প্রায় ২৫ শতাংশ এমপির ধারণা, আগামী নির্বাচনে কিয়ার স্টারমার দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিফ হুইপ জোনাথন রেনল্ডস সারা দিন ডাউনিং স্ট্রিটে ছিলেন। এরই মধ্যে চারজন পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি—টম রুটল্যান্ড, মেলানি ওয়ার্ড, নওশাবা খান এবং জো মরিস পদত্যাগ করেছেন। তারা স্টারমারকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

চাপের মুখেও সোমবার এক ভাষণে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন স্টারমার। তিনি বলেছেন, দেশ লেবার পার্টিকে কখনোই ক্ষমা করবে না যদি তারা টোরিদের মতো নেতৃত্ব নির্বাচনের বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ে। কাজের মাধ্যমেই সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়ার স্টারমারের স্থলে ওয়েস স্ট্রিটিং এবং অ্যান্ডি বার্নামের নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে। বিশেষ করে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নামের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এমনকি ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও বার্নামের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এড মিলিব্যান্ডের মতো কোনো অভিজ্ঞ নেতাও সামনে আসতে পারেন।

দলের একটি অংশ নেতার পরিবর্তন চাইলেও অন্য অংশের অবস্থান হলো- এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন আত্মঘাতী হতে পারে। এমপি নাতাশা আয়রন্সসহ অনেকের আশঙ্কা, লেবার পার্টির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল কট্টর ডানপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজকে বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা দেবে।

তবে মঙ্গলবারের ক্যাবিনেট বৈঠক কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তিনি নতুন কোনো কৌশল নেন, নাকি বিদায়ের পথ বেছে নেন—সেদিকেই তাকিয়ে পুরো ব্রিটেন।