যুক্তরাষ্ট্রে খুন হওয়া বৃষ্টির মরদেহ বুধবার আসছে দেশে, দাফন হবে মাদারীপুরে

৭৬

যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যার শিকার মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বুধবার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। মাদারীপুর সদরের চর গোবিন্দুপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকন। তিনি জানান, আগামী ৬ মে যুক্তরাষ্ট্রে জানাজা শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। স্থানীয় ফিউনারেল হোম ইতিমধ্যে পুলিশের কাছ থেকে মরদেহ বুঝে নিয়েছে।

“বুধবারের পর যেকোনো দিন বৃষ্টির লাশ আমাদের হাতে আসতে পারে। দেশে এলেই গ্রামের বাড়িতেই দাফন হবে, এটা নিশ্চিত,” বলেন জহির উদ্দিন।

২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঢাকার মিরপুরে থাকলেও তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরে।

জহির উদ্দিন জানান, সবশেষ ১৬ এপ্রিল মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বৃষ্টি। পরে জানা যায়, সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে তাকেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন রুমমেটের দ্বন্দ্বের জেরেই এই অপহরণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজের আটদিন পর ১ মে লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে মার্কিন পুলিশ। পরদিন ২ মে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরীক্ষায় বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয় তারা।

মাত্র সাত মাস আগে দেশ ছেড়ে স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় গিয়েছিলেন বৃষ্টি। সেই স্বপ্ন থেমে গেল ক্যাম্পাসের অন্ধকার এক ঘটনায়। এখন পুরো চর গোবিন্দুপুর গ্রাম অপেক্ষায়—মেয়েকে শেষবারের মতো একবার দেখবে, জানাজা পড়ে মাটি দেবে নিজেদের উঠোনে।