তেহরানের সম্মতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে কোনো করিডর নয়: ইরান

২৮

হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপদ সামুদ্রিক করিডর’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় (আইএমও) সংযুক্ত আরব আমিরাতে উত্থাপিত প্রস্তাবটিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

তেহরান এই প্রস্তাবকে ‘আইনগতভাবে ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছে। খবর প্রেস টিভির।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আইএমও লিগ্যাল কমিটির ১১৩তম সভায় ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি পুরিয়া কলিভান্দ এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।

তিনি হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের দাবি ও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই নথিতে একপাক্ষিক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যা ভিত্তিহীন দাবি এবং আইনগতভাবে অকার্যকর সিদ্ধান্তে ভরপুর।

কলিভান্দ আরো বলেন, আইএমও একটি গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে যা পদ্ধতিগতভাবে অবৈধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো করিডর তৈরির ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের প্রধান উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের পূর্ণ সম্মতি ও সমন্বয় থাকতে হবে।

ইরান দাবি করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক জোটের ‘উসকানিমূলক আগ্রাসনই’ এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মূল কারণ। কলিভান্দ তার বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকের বর্বর যুদ্ধের সরাসরি ফল, যা জাতিসংঘের সনদের চরম লঙ্ঘন।”

তিনি আরো যোগ করেন, যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই আগ্রাসনে সহায়তা করছে, তাদের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়বদ্ধ থাকতে হবে।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও হরমুজ প্রণালি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে জানিয়ে কলিভান্দ বলেন, শুধুমাত্র আক্রমণকারী বা শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, আমিরাতের প্রস্তাবটি ইরানকে পরিস্থিতির জন্য দায়ী করার যে চেষ্টা করেছে, তা আইনি ও প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ।

ইরানের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধের ৪০ দিনে ইরানের ৩৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলায় ২০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

আইএমও-এর কাছে জমা দেওয়া একটি কড়া বিবৃতিতে ইরান বলেছে, “এগুলো শুধু সংখ্যা নয়; এগুলো যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।” এতে আরো বলা হয়, আগ্রাসনের জবাবে ইরান জাতিসংঘের সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে।

তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ইরানের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো নিরাপদ সামুদ্রিক করিডর করার চেষ্টা আইএমও-এর কাজকে আরও রাজনৈতিকীকরণ করবে এবং এর প্রযুক্তিগত অখণ্ডতা নষ্ট করবে।

এছাড়াও, ইরান অভিযোগ করেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কিছু পারস্য উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানকে আক্রমণের সুযোগ দিয়ে এই আগ্রাসনে সহায়তা করছে। কলিভান্দ ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধেরও তীব্র নিন্দা জানান।