খুলনায় শ্রমিকদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, অস্ত্রসহ কিলার আটক

খুলনায় মাসুম বিল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে খুলনা মহানগরীর ডাকবাংলো মোড়ের বাটার দোকানের সামনে মাসুমের ওপর হামলা হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ অশোক ঘোষ (৩৮) নামে এক হত্যাকারীকে অস্ত্রসহ আটক করেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) ও মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত.ম. রোকনুজ্জামান বিষয়টি সম্পর্কে রাইজিংবিডি ডটকমকে তথ্য দিয়েছেন।

নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক এবং রূপসা-বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে।

ঈদকে সামনে রেখে প্রকাশ্য দিবালকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নগরীতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাজার এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় এবং লোকজন চলাচল কম দেখা যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে ডাকবাংলা মোড়ে এলাকায় ছিলেন মাসুম বিল্লাহ। তখন সাত-আটজন অস্ত্রধারী তার ওপর গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক সূত্রে পুলিশ জানায়, তাৎক্ষণিক অশোক ঘোষ নামে এক অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়। তিনি নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া এলাকার বিশ্বনাথ ঘোষ ও সুমিত্রা ঘোষের পুত্র। তিনি সন্ত্রাসী আশিক গ্রুপের সদস্য। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রূপসা টোল প্লাজা ভাঙচুর এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে খুলনার লবণচরা এলাকার সন্ত্রাসী আশিক বাহিনীর সঙ্গে মাসুম বিল্লাহর বিরোধ হয়। ওই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সে মোতাবেক গত কয়েকদিন ধরে মাসুমের ওপর নজরদারি শুরু করে দুর্বৃত্তরা। তারই অংশ হিসেবে সুযোগ বুঝে তাকে হত্যা করা হয়।

তবে সূ্ত্রগুলোর দেওয়া এসব তথ্য তাৎক্ষণিক নিরপেক্ষাভাবে যাচাই করা সম্ভাব হয়নি।

নিহত মাসুম বিল্লাহ ও তার ভাই গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর রূপসার নৈহাটি ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের জয়পুর এয়ারটেল টাওয়ারের পাশে ইমরান হোসেন মানিক নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় মামলা রয়েছে।

২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর র‌্যাব-৬ রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ মাসুমকে গ্রেপ্তার করে। ইতোপূর্বে রামপালের ফয়লায় রেনু পোনার বাস ডাকাতি এবং রূপসায় আক্তার হোসেন খান নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার সঙ্গেও মাসুম বিল্লাহর সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাসুমের বড় ভাই রূপসার নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শীর্ষ সন্ত্রাসী মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল (৫২) ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে পরিচিত ছিলেন।