নির্বাচনের আগের অবস্থার সাথে ফলাফলের মিল পাচ্ছি না: ফয়জুল করিম

৭৮

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েও একটি মাত্র আসনে জয়। তবু ভোট-পরবর্তী মূল্যায়নে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে লড়ার ঘোষণা, আর ফল ঘোষণার পর জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে বেশি আসন পাওয়া যেত, এই বক্তব্যকে ঘিরে উঠেছে ‘দ্বিচারিতা’র প্রশ্ন।

শুক্রববার ১৩ই ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি। এছাড়াও ফয়জুল করিম বলনে, ‘আমি মনে করি, আমি সবসময় উইন করতেছি’।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগের অবস্থার সাথে নির্বাচনের পরের ফলাফলের সাথে তিনি মিল পাচ্ছেন না, কেন যে পাচ্ছেন না তাও খুঁজে পাচ্ছেন না। পাশাপাশি বাংলাদেশে যেন গুণ্ডাতন্ত্র না হয় সে বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান ফয়জুল করিম।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী দেয়। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক মানচিত্রে পরিবর্তনের আশা ছিল হাতপাখা শিবিরে। তবে শেষ পর্যন্ত বরগুনা-১ আসনে একক জয় ছাড়া বড় সাফল্য আসেনি।

বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ফয়জুল করিম। একটিতে দ্বিতীয়, অন্যটিতে তৃতীয় অবস্থান। ফল ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানালেও পরে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে আরও বেশি আসন পাওয়া সম্ভব ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্র অবস্থান জোরালো করা এবং পরে জোট না করার আক্ষেপ। এই দুই অবস্থান পরস্পরবিরোধী বার্তা দেয়। এতে ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

বরিশাল-৪ আসনে দলের সহকারী মহাসচিব সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। আর ঢাকা-৪ আসনে প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী জামানত হারান।

চরমোনাই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি, সবখানেই তাঁদের প্রভাব স্পষ্ট। কিন্তু সংসদীয় রাজনীতিতে ধর্মীয় প্রভাব ও সাংগঠনিক বলয়ের বাইরে বিস্তৃত ভোটব্যাংক গড়ে তোলাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠন সুজন এর সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন, ইসলামী আন্দোলনের ভোট এখনো সীমিত। বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হাতপাখা মাঝামাঝি অবস্থানে আটকে যায়। বিশেষ করে তরুণ ও শহুরে ভোটারদের সঙ্গে আবেগী ও রাজনৈতিক সংযোগ দুর্বল।

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, স্বতন্ত্র শক্তি হওয়ার কৌশল, নাকি জোটভিত্তিক বাস্তব রাজনীতি? কোন পথে হাঁটবে চরমোনাই নেতৃত্ব? নির্বাচনী ফলের চেয়ে এখন বড় আলোচনা দলটির রাজনৈতিক অবস্থানের ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।