হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ, রাতভর অবস্থানের ঘোষণা

১১৮

শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি সন্ধ্যার পর আরও বিশাল রূপ ধারণ করে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ঘোষণা দিয়েছেন, খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং রাতভর শাহবাগেই অবস্থান করবেন। রাত ৯টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকেও এই অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহবাগ মোড়ের চারদিকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভিড়। যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ্য হাদি লড়াই করে’ এবং ‘লীগ ধর, জেলে ভর’—এমন সব তীব্র স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে শাহবাগ।

বিক্ষোভ সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত খুনিদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেওয়া হলেও সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

এদিকে ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, খুনিরা কোথায় আছে বা পালিয়ে গেছে কি না, সেই তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দিতে পারছে না। উল্টো আমাদেরই গোয়েন্দাগিরি করতে হচ্ছে। এমন অযোগ্য প্রশাসনকে জনগণের টাকায় বসিয়ে রেখে লাভ কী?”

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফাতিমা তাসনিম জুমা আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে অনেক নেতা তৈরি হলেও ওসমান হাদি সবসময় নিজেকে একজন ‘কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার এই অদম্য দেশপ্রেম ও বিনয়ই তাকে আজ গণমানুষের নেতায় পরিণত করেছে।

শহিদ হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি অভিযোগ করেন, সরকারের আচরণে বিচারের ব্যাপারে চরম আন্তরিকতার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন হাদি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তিনি শাহাদাতবরণ করেন। ইনকিলাব মঞ্চ ইতিপূর্বেই ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে এই হত্যার বিচার সম্পন্ন করে ‘ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়ার শপথ নিয়েছেন।