গাজীপুরের টঙ্গীতে রাসায়নিক গুদামের আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ পরিদর্শক খন্দকার জান্নাতুল নাঈম (৩৮) মারা গেছেন।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে একই ঘটনায় তিন ফায়ার কর্মীসহ চারজনের প্রাণহানি হলো।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নাঈমের শরীরের ৪২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। টানা কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
এর আগে—
- মঙ্গলবার বিকালে ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ,
- বুধবার ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদা,
- শুক্রবার দোকান কর্মচারী বাবু হাওলাদার মারা যান।
কীভাবে দগ্ধ হন তারা
গত সোমবার বিকালে টঙ্গীর সাহারা মার্কেটে টিনশেডের এক রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথম বিস্ফোরণের পর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করলে রাসায়নিকের আরেকটি ড্রাম বিস্ফোরিত হয়। এতে নাঈমসহ চারজন গুরুতর দগ্ধ হন।
নাঈমের কর্মজীবন ও পরিবার
- জন্ম: ২৪ আগস্ট ১৯৮৮, শেরপুরের নকলা উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের খন্দকার বাড়িতে।
- শিক্ষা: মোল্লার টেক উদয়ন বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর।
- চাকরি: ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট ফায়ার সার্ভিসে যোগদান। মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে স্টেশন অফিসার ছিলেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে চট্টগ্রাম ও সর্বশেষ টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।
- পরিবার: স্ত্রী, এক সন্তান, বাবা খন্দকার মোজাম্মেল হক ও মা দেলোয়ারা বেগম।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, আবাসিক ও জনবহুল এলাকায় রাসায়নিক গুদাম থাকায় ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।