জাহিদ হাসান: রাজধানী ঢাকার আশকোনা হজ ক্যাম্প সংলগ্ন আসিয়ান সিটি রোডে সিভিল এভিয়েশনের জমিতে গড়ে উঠেছে একটি অবৈধ ময়লা ডাম্পিং সাইট। শুরুতে এটি শুধু ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা একসঙ্গে এখানে ফেলা হচ্ছে। অথচ পূর্বে এসব ওয়ার্ডের ময়লা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের নির্ধারিত ডাস্টবিনে সংরক্ষণ করা হতো।

পূর্বে এসব ওয়ার্ডের ময়লা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ডাস্টবিনে ফেলা হতো। তবে বর্তমানে স্থানীয় সুপারভাইজাররা ময়লার ভ্যান থেকে টাকা আদায় করে এবং সরকারি কর্মকর্তা আসাদ (ACW) ও কামরুল (CI)-এর কাছে ঘুষ প্রদান করে অবৈধভাবে এই সাইট চালু রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ওয়ার্ডের সুপারভাইজাররা ময়লার ভ্যান থেকে টাকা আদায় করেন এবং সরকারি কর্মচারী আসাদ (ACW) ও কামরুল (CI)-এর কাছে ঘুষ দিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সরকারি জমি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে পরিবেশবিধ্বংসী এই ডাম্পিং সাইট।

এই ডাম্পিং সাইটের আশপাশে রয়েছে আল-রাহা হাসপাতাল, একটি এতিমখানা ও মাদ্রাসা, আবাসিক হোটেল এবং ঘনবসতি। ফলে এলাকার মানুষ তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, চর্মরোগ এবং অন্যান্য রোগ বাড়ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ—দিন-রাত ময়লার গাড়ি চলাচলের কারণে দুর্গন্ধ, শব্দদূষণ এবং পরিবেশদূষণ সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৫,০০০ থেকে ৩০,000 টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার অর্ধেকেরও বেশি অপরিকল্পিতভাবে ফেলা হয়। ঢাকার দুই প্রধান ল্যান্ডফিল—মাতুয়াইল ও আমিনবাজার—এর ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নতুন এলাকায় ডাম্পিং বেড়েই চলেছে। আশকোনার এ ঘটনাও তারই একটি উদাহরণ।

অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদ জনগণের অভিযোগকে আমলে নিচ্ছেন না, বরং দাপট দেখাচ্ছেন। তাঁর “ডেম কেয়ার” মনোভাব সরকারি দায়িত্ব পালনের চরম অবহেলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১. আশকোনা ডাম্পিং সাইট অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া হোক।
২. ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া অন্য কোনো ওয়ার্ডের ময়লা এখানে ফেলা যাবে না।
৩. দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৪. বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
৫. উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ডাস্টবিন পুনরায় সক্রিয় করা হোক।
৬. সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি সংলাপ শুরু করা হোক।

পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো পুরনো এবং অকার্যকর। এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা “পাবলিক হেলথ টাইম বোমা”তে রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে আশকোনা-আসিয়ান সিটি এলাকা অচিরেই একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নেবে।