লঞ্চের নকশা পুনর্বিন্যাসে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধদের দেখতে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রতিমন্ত্রী সেখানে যান। এসময় নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, হেলথ সেক্টর সবাইকে দিয়ে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। তদন্ত রিপোর্ট অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন। কেউ কেউ আমাদের নলেজের বাইরে নিজস্ব উদ্যোগে চলে এসেছেন সে কারণে হয়তো সাপোর্ট পায়নি। তবে সবার সবধরনের চিকিৎসায় আমরা সহায়তা করবো। পুড়ে যাওয়ার চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল, অনেকের পক্ষেই এটা করা হয়তো সম্ভব না। অনেকের পক্ষে খুবই কষ্টসাধ্য হবে। এসব ক্ষেত্রে সরকার তাদের পাশে থাকবে।
এমন ভয়াবহ ঘটনার অভিজ্ঞতা আগে ছিল না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি তদন্ত কমিটি করেছি। অনেক ধরনের মতামত আমরা পেয়েছি। বড় জাহাজ, একেকজন ঘটনাটি একেকভাবে দেখেছে। অধিকাংশই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল, সেজন্য আতঙ্কটা বেশি ছড়িয়ে গেছে।
তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না এমন প্রশ্নে খালিদ মাহমুদ বলেন, ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেই দিনদিন নৌ সেক্টরে উন্নতি হচ্ছে। সব তদন্ত সুপারিশ আমরা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করেছি। করছি না যে তা না। সদরঘাটের অবস্থা এখন আর আগের মতো নাই।
লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের পাশেই রান্নাঘর বসানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা বলছি লঞ্চের নকশাগুলো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই অবস্থা নিয়ে যাত্রীসেবা দেওয়া খুব কঠিন। এই জায়গায় আমাদের ভাবতে হবে। ইলেক্ট্রিসিটির যে তার লঞ্চে ব্যবহার করা হয় সেখানে ঝুঁকি আছে। এখানে দুর্বল, সাশ্রয়ী ক্যাবল ব্যবহৃত হয়। যারা সার্ভে করে তাদের এ জায়গাগুলো সঠিকভাবে দেখতে হবে। লঞ্চের বর্তমান নকশা সংস্কারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের একটা যাত্রী কল্যাণ ফান্ড আছে। তারা যেহেতু আমাদের যাত্রী ছিল, আমাদের অংশীজন। সরকার শুধু তাদেরই না যেকোনো বিপদের সম্মুখীন মানুষের পাশে আছে। এই সরকার কিন্তু মানবিক সরকার। কোনো জায়গায় কিন্তু স্কিপ করে যাচ্ছে না। এখানে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা কেউই আমাদের দৃষ্টির বাইরে থাকবে না।
এদিকে, রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই ঘটনায় দগ্ধ মমতাজ বেগম (৭০) ও লামিয়া আক্তারকে (১৩) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে। আর সাড়ে নয়টার দিকে খাদিজা আক্তার (২৭), হাবিবুর খান (৪৫) ও রাসেল (৩৮) নামে তিনজনকে সেখানে আনা হয়। এছাড়া রাত নয়টার পর বঙ্কিম মজুমদার (৬০) ও মনিকা রানী (৪৫) নামে দুজনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে। সম্পর্কে তারা স্বামী-স্ত্রী। এ নিয়ে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১৫ জনকে ঢাকায় আনা হলো।
এর আগে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যাদের আনা হয়েছে তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়াও অগ্নিদগ্ধ আরও ৭৬ জন বরিশালে আছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলেও জানান মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠির কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন ৪০ জন।