ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক মুসলামনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও বেশিরভাগ গ্রেফতারের ঘটনা যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের বরেলী, আগরা, লক্ষেèৗয়ে। কিন্তু কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানে অশোক গহলৌতের পুলিশ যেভাবে নাফিসাকে গ্রেফতার করেছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যসব দর্শকের মতো নাফিসা আটারিও টেলিভিশনের সামনে থেকে উঠতে পারেননি রোববার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখবেন বলে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিলেন তিনি। রাজস্থানের উদয়পুরের নিরজা মোদি স্কুলের শিক্ষিকা তিনি। ম্যাচ শেষে ভারতের বিরুদ্ধে জয় পায় পাকিস্তান। হোয়াটসঅ্যাপে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে পাকিস্তানের সেই জয় উদযাপন করাই কাল হলো তার। খেলার দু’দিন পর সবশেষ কারাগারেই জায়গা পেলেন তিনি। এছাড়া একই অপরাধে হারিয়েছেন চাকরিও। সেদিন উদয়পুরের অম্বা মাতা থানা পুলিশ নাফিসাকে গ্রেফতার করে।
অম্বা মাতা থানার পুলিশ কর্মকর্তা নরপত সিংহ জানান, নাফিসাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ বি (জাতীয় সংহতি বিরোধী) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হলে তার জেল হয়। ‘অপরাধ’-এর জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন নাফিসা।
রাজস্থানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি বলেন, ‘‘সে দিন একজন আমার স্ট্যাটাস দেখে হোয়াটসঅ্যাপেই জানতে চেয়েছিলেন, আমি পাকিস্তানকে সমর্থন করছি কি না। সাথে কিছু হাসির ইমোজিও ছিল। মনে হয়েছিল হাল্কা মেজাজে মজা করে আমাকে এই প্রশ্ন করা হয়েছে। আমিও হাসতে হাসতেই বলেছিলাম ‘হ্যাঁ’। কিন্তু তার মানে তো এই নয় যে, আমি পাকিস্তানকে সমর্থন করি। আমি ভারতীয়। ভারতকে ভালোবাসি।’’ এনডিটিভি।