দেশের আলোচিত ও সমালোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশাল শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল শহরের বাংলাবাজার এলাকার একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রের পাশের একটি বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালায় সিআইডি। এ সময় ওই বাসা থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে আসা সিআইডির একটি দল আফ্রিদিকে বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। এ সময় সিআইডির দলকে পুলিশ সাহায্য করেছে।
সিআইডির গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় রোববার রাতে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি শুধু ভয় পাইতেছি আমার স্ত্রী ছয়মাসের প্রেগন্যান্ট।’
এ ছাড়া একজন তৌহিদ আফ্রিদির কাছে জানতে চান, এটি ভাড়া বাসা কিনা। জবাবে তিনি জানান, এটা তার দাদার বাড়ি। তার বাবা গ্রেপ্তার হওয়ার পর দাদার করব জিয়ারত করতে এসেছেন।
এর আগে সবাইকে আশ্বস্ত করে আফ্রিদি বলেন, আমি পালাবো না। কোরআনের কসম। আমি ওমরাহ করে এসেছি। আমি কেমন ছেলে তা সবাই জানে।
পরবর্তীতে গাড়িতে ওঠার সময় প্রশ্ন করেন, ‘আমরা ডিবিতে যাচ্ছি না?’ এ সময় পাশ থেকে একজন সংশোধন করে বলেন, ‘সিআইডি।’
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দেয় জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ)। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দাবি করা হয়, আফ্রিদি শুধু বর্তমান সরকারের সময়কালের নয়, ১৫ আগস্টের আওয়ামী লীগ ক্যাম্পেইনের সময়ও অর্থ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, তৌহিদ আফ্রিদি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার আসামি। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি করেন মো. জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তি। মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি ও তার বাবা মাইটিভির মালিক নাসির উদ্দিন সাথীসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় এজাহারনামীয় ১১ নম্বর আসামি তৌহিদ আফ্রিদি।