মোস্তফা কামাল তোহা, বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজনীতির বাইরে ‘শুধু দোয়া নিতে’ গিয়েছিলেন; এমনটাই জানালেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যিনি মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ছারছীনা দরবার শরীফ-এর বর্তমান পীর শাহ আবু নসর নেছার উদ্দিন আহমদ হোসাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে ছারছীনা দরবারের প্রতি দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধাশীল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-ও জীবদ্দশায় একাধিকবার পীর সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আমি শুধু হুজুরের কাছে দোয়া নিতে এসেছি। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়।”
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ছারছীনা দরবার শরীফ বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও ঐতিহ্যবাহী একটি সুফি দরবার। এই দরবারের অনুসারীদের সংখ্যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে, বিশেষত দক্ষিণাঞ্চলে। রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সময়ে এই দরবারের পীরের কাছে দোয়া নিতে বা সমর্থন পেতে আসেন। বিশেষ করে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের আগে এই ধরনের দরবারে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি নতুন কোনো ঘটনা নয়।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২০১৫ সালে হঠাৎ ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর ভারতের শিলংয়ে খুঁজে পাওয়া যায় তাকে। সেখানে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলাও হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। পরে তিনি দেশে ফিরে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এই সময় তিনি দলীয় বা রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য না দিয়ে শুধুই “সৌজন্য সাক্ষাৎ” এবং “দোয়া চাওয়া”র কথা বললেও, বিশ্লেষকদের মতে, এটি হতে পারে একটি কৌশলগত সৌজন্যতা। বিশেষত দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইসলামপন্থী ভোটারদের মন জয়ে দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।
দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী প্রভাবসম্পন্ন বিভিন্ন দরবার ও পীরদের সাথে রাজনৈতিক দলের যোগাযোগ লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে ইসলামী ভাবধারার অনুসারীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পেতে বড় দলগুলো মাঝে মাঝে এ ধরনের ‘অরাজনৈতিক’ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সামাজিক বার্তা দিতে চায়।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ইসলামী ভাবধারার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন। ফলে সালাহউদ্দিন আহমদের এই সফর নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ না হয়ে, ভোটের রাজনীতিতে একটি ‘ক্লাসিকাল সফট অ্যাপ্রোচ’ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।