নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ঐক্যের কোনো অভাব নেই। এই ঐক্য অটুট রয়েছে এবং থাকবে।”
তিনি বলেন, “রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবেই। কখনো পক্ষে, কখনো বিপক্ষে বক্তব্য আসবে, বাকবিতণ্ডাও হবে। এটাই রাজনীতির সৌন্দর্য। এসব নিয়ে আমরা বিচলিত নই।”
আজ বুধবার (২৩ জুলাই ২০২৫) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল’-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনীতি মানেই হচ্ছে মতবিনিময়, তর্ক-বিতর্ক এবং প্রতিপক্ষকে যুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করা। এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শাণিত হয়, এবং জনগণের চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন ঘটে। গণতন্ত্র মানে সকলের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করা। ‘শতফুল ফুটতে দিতে হবে’, কারণ তার মধ্য থেকেই সত্যিকার সৌরভ বেরিয়ে আসবে।”
‘রেইনবো স্টেট’ গঠনের অঙ্গীকার
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “৩১ দফার আলোকে আমরা যে ‘রেইনবো স্টেট’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই রাষ্ট্রে সব ধর্ম, বর্ণ ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশ হবে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বৈচিত্র্যময় রাষ্ট্র।”
এ সময় ‘জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল’-এর সভাপতি মৃগেন হাগিদের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার।
‘সরকার সংকটে পড়লে আমাদের ডাকে’
গতকাল রাতে সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকার যখন সংকটে পড়ে, তখন আমাদের ডাকে। আমরা গণতন্ত্রের উত্তরণের স্বার্থে সেখানে যাই। মতবিনিময় নিয়মিত হলে হয়তো অনেক সমস্যাই এড়ানো যেত।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই ও আগস্ট মাসের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শক্তিকে জনগণ পরাজিত করেছে। কিন্তু একই সময়ে আবারও ওই শক্তির উত্থানের চেষ্টাও আমরা লক্ষ্য করছি।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে ও চক্রান্তের অভিযোগ
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সরকারকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করছি। একইসঙ্গে আমরা দাবি জানিয়েছি—প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।”
উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি একটি দুর্ঘটনা। তবে গোপালগঞ্জে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। সচিবালয়ে প্রবেশ করে উপদেষ্টাদের আটকে রাখার ঘটনায় ফ্যাসিস্ট শক্তি জড়িত। তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।”
‘জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে’
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ এখন অত্যন্ত সচেতন। তারা যেকোনো ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী কৌশলকে রুখে দিতে প্রস্তুত। গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।”