নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩ জুন ২০২৫

ঢাকা থেকে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলে চড়ে বের হওয়া এক তরুণী (বিউটি পারলারের কর্মী) নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। রাজধানীর শ্যামলীতে যাওয়ার পথে তাকে অচেতন করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীর ঘোড়াশালে। সেখানে একটি সেতুর পাশে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে অপহরণকারী চক্র।

ঘটনার চারদিন পর তদন্তে অগ্রগতি এনে মূল অভিযুক্ত মোটরসাইকেলচালক মো. শাহ পরান (৩০) কে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ মে) নরসিংদীর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শাহ পরান ধর্ষণ ও অপহরণের দায় স্বীকার করেছেন।

৯৯৯-এ কল, সাত ঘণ্টায় উদ্ধার

গত ২৮ মে, বিকেল তিনটার দিকে ওই তরুণী মিরপুর ১২ থেকে শ্যামলীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে ভিকটিমের এক আত্মীয় ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, মেয়েটি অপহৃত হয়েছেন এবং মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হচ্ছে। তিনি ইতিমধ্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২,৫০০ টাকা দিয়েছেন বলেও জানান।

এরপর নরসিংদীর পলাশ থানা পুলিশ তৎপর হয়ে ঘোড়াশালের কালভার্ট ব্রিজ এলাকার কাছে রাত ১০টার দিকে তরুণীকে উদ্ধার করে।

ঘটনার বিবরণ ও মামলার অগ্রগতি

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়েটিকে অপহরণ করে অচেতন অবস্থায় নরসিংদীতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শাহ পরান সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার দুই সহযোগী মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভিকটিমের অ্যাকাউন্ট থেকে তিন হাজার টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পরই তরুণী পলাশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাহ পরানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, শনিবার রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহ পরান একাধিক স্ত্রীসহ কেরানীগঞ্জে বসবাস করতেন এবং সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চালানো শুরু করেন।

পলাতক দুই সহযোগী

মামলার অন্য দুই আসামি শাহ পরানের দুই বন্ধু এখনও পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।