সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজ হারকে উল্টো দলের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেছিলেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদও ছিল তার কণ্ঠে। তবে বাস্তবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এসে টাইগারদের পারফরম্যান্সে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না।

শুক্রবার (৩১ মে) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে একেবারেই অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে বল হাতে নিরুত্তাপ, এরপর ব্যাট হাতে ছন্নছাড়া – সব মিলিয়ে পাকিস্তানের কাছে ৫৭ রানে হেরেছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল। ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে দাপট দেখায়। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ২০১ রান। ৭ বছর পর জাতীয় দলে ফেরা ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান মাত্র ৪১ বলে ৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ৬টি বিশাল ছক্কা। এছাড়া হাসান নওয়াজ খেলেন ২৬ বলে ৫১ রানের দারুণ এক ইনিংস। হারিসও দেন ২৫ বলে ৪১ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা আশানুরূপ হলেও মাঝপথেই খেই হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ১৯ বলে ৩৩ রান করেন। তবে পরবর্তী ব্যাটারদের কেউই দাঁড়াতে পারেননি। লিটন, পারভেজ, হৃদয়, জাকের – একের পর এক ফিরেছেন ব্যর্থ হয়ে।

শেষ দিকে তানজিম হাসান সাকিব ৩১ বলে ৫০ রানের ঝলক দেখান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ২৩ রান করেন, যা শুধুই ব্যবধান কমানোর কাজ করেছে। সব মিলিয়ে ১৯ ওভারেই ১৪৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০১/৬ (২০ ওভার)
ফারহান ৭৪, নওয়াজ ৫১*, হারিস ৪১;
তানজিম ২ উইকেট, হাসান ২ উইকেট

বাংলাদেশ: ১৪৪ (১৯ ওভার)
তানজিদ ৩৩, তানজিম ৫০, মিরাজ ২৩;
আবরার ৩ উইকেট, শাদাব, খুশদিল, সাইম প্রাপ্ত ১টি করে উইকেট

একটি সিরিজ হার শুধু স্কোরকার্ডের হিসেব নয়, আত্মবিশ্বাসেরও বড় ধাক্কা। বাংলাদেশ দলের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ নিজেদের ঘর গোছানো এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন কৌশল খুঁজে বের করা।