জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের দণ্ড বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

আজ বুধবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতি আপিল বেঞ্চে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা শুনানি করেন।

খালেদা জিয়ার পক্ষে একাধিক আইনজীবী শুনানিতে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। তারা জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আইনজীবীরা দাবি করেন, রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এই সাজানো মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। ট্রাস্টের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের কোনো সম্পর্ক নেই।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে তারেক রহমানসহ সব আসামিদের ১০ বছরের সাজা দেয়া হয়৷ পরে হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা৷

এর আগে, গত ১১ নভেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এরও আগে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে, এ মামলার অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এরপর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। পরে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন।