করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তিন হাজার সাতশ ১১ জন যাত্রীসহ প্রমোদতরী ‘ডায়মন্ড প্রিন্সেস’ সমুদ্রে আলাদা করে রেখেছে জাপান।

জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা সেই প্রমোদতরীতে এখন পর্যন্ত ১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে।

তবে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কারণ এখনো প্রমোদতরীর সব যাত্রীর পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মাত্র তিনশ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে।

জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাটসুনোবু কাটো জানান, এর আগে সেই জাহাজের একজন যাত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তার সঙ্গে যারা দেখা করেছিলেন এবং একটু অস্বস্তিতে রয়েছেন, এরকম তিশন জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ১০ জনের মধ্যে তিনজন জাপানের নাগরিক। ওই ১০ জনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপিরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে। পরিণতিতে ঘটতে পারে মৃত্যু।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে।

এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।

জাপান সরকার বলছে, সেই জাহাজে অন্তত ১৪ দিন যাত্রীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কারণ, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ১৪ দিনের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ পায়। আর এ ঘটনায় জাপানে এখন পর্যন্ত ৩৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হলেন।

এদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো উহান থেকে দ্রুত তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে।

এরই মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যাডানোম গ্রেবিয়াসিস এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

তবে বিভিন্ন দেশ চীনের ওপর এ ভাইরাস মোকাবিলার ব্যাপারে আস্থা রাখছে। সহমর্মিতাও প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।

ফিলিপাইনসহ অনেক দেশই এই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চীন থেকে আগতদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক দেশের এয়ারলাইন্স চীনগামী ফ্লাইটও বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চীন।