চট্রগ্রাম ডেস্ক: মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ছাত্রদের প্রতীকী সংসদের বক্তব্য শুনে বলেছিলেন, ”মাতুব্বরি করা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কাজ নয়৷”। একই সুরে কথা বলেছেন মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড (কুমিল্লা) দ্বারা নব অনুমোদিত ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটির সভাপতি  ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের সদস্য  সাইফুল ইসলাম রিপন

তিনি বলেন, “লোভী ও নিজের নামের সাথে পদবী বাড়ানো  কাজে  ব্যস্ত ব্যক্তিদের দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানো,হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ক্যান্সার রোগির চিকিৎসা করারই সামিল৷  শিক্ষক সমাজের  বর্তমানে প্রবল প্রত্যাশা, স্কুল কমিটি গঠনের আমূল পরিবর্তন আসুক। শুধু শিক্ষক সমাজই নয় সর্বমহলেই প্রত্যাশা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্লোভ, মার্জিত ও কর্মঠ তরুণ নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটুক ৷ বিনা স্বার্থে টাকা খরচ করার মানুষের সংখ্যা আমাদের দেশে এখন যৎসামান্য ৷ টাকা খরচের পেছনে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে কোনো না কোনো স্বার্থ লুকিয়ে থাকে ৷ মসজিদে টাকা দান করলেও এখন মানুষ তার নামটা মাইকে শোনাতে পছন্দ করেন ৷ আমি এ স্কুলের সকলকে নিয়ে এ ধারনার পরিবর্তন করতে চাই। এমনকি একজন শিক্ষার্থীর কথারও মূল্যায়ন করতে আমি সদা প্রস্তুত”।

গত ২৪ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং- কমিটি/১৫৯/চাঁদ/৩২২)  জানা যায়, গত ৩০ মে ২০১৯ তারিখে ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রেরিত আবেদন অনুযায়ী জনাব সাইফুল ইসলাম রিপনকে উপজেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রথম সভা হতে পরবর্তী দু’বছরের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ হলেন : আবুল খায়ের পাটওয়ারী, আব্বাছ উদ্দিন বেপারী, মোঃ আমির হোসেন পাটওয়ারী, ওমর ফারুক পাটওয়ারী, মোজাম্মেল হোসেন, নুরুন্নাহার বেগম, শিক্ষক প্রতিনিধি আবুল কাশেম, সাবিত্রী মজুমদার, নার্গিস ফাতেমা জান্নাত এবং সদস্য সচিব (পদাধিকার বলে) প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন। ইতোপূর্বে কমিটি নিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা জনাব আবুল খায়ের পাটওয়ারী সাহেব অনাস্থা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে জনাব সাইফুল ইসলাম রিপন সাহেবের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনাব আবুল খায়ের পাটওয়ারী বোঝাতে চেয়েছেন, অন্যায় অনিয়মে এই কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা হয়। কিন্তু সংবিধানের সকল  নিয়ম মেনেই এ কমিটি গঠিত করা হয়, যা শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদনে প্রমাণিত।

 

বিদ্যালয়ের উন্নয়নের বা বিদ্যালয়কে নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই বিদ্যালয়টি অন্যান্য বিদ্যালয়ের চেয়ে শিক্ষায় সেরা একটি বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের বিগত সব পরীক্ষার ফলাফল অনেক ভালো হলেও বিদ্যালয়ের ভবনের পরিস্থিতি খুবই নাজুক। ভবন গুলো অনেক পুরোনো ও জীর্ণশীর্ণ  কিন্তু এ বিষয়ে পূর্বের কোনো সভাপতি বা সদস্যরা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পূর্বের কমিটির সদস্যগণ মাসিক সভাতেও ঠিক মত আসতেননা। কিন্তু, বিভিন্ন সময়ে এসে শিক্ষক-অবিভাবকদের নিজ নিজ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন। আমি ছড়ি গুরাতে আসিনি। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান  জাহিদুল ইসলাম রোমান’র সহযোগীতায় এ বিদ্যালয়কে নতুন রুপে একটি আধুনিক বিদ্যালয় হিসাবে গড়ে তুলতে চাই”।

সভাপতি নয়, একজন কর্মী হিসেবে সকলের সহযোগিতা পাবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস