ক্রীড়া ডেস্ক, প্রিয়আলোঃ  বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে এখন আর চায়ের কাপে ঝড় থাক দূরের কথা! রীতিমত স্পন্সর পেতেও ঘাম ঝরাতে হয় বাফুফের কর্মকর্তাদের। এমনটাই মনে করছেন অনেকে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন এখনো বছর খানেকের বেশি বাকী! তারপরও উত্তাল হয়ে উঠেছে ফুটবলাঙ্গন! জাতীয় দলের সাফল্য নেই। নেইক কোন আন্তর্জাতিক সাফল্য। বয়সভিত্তিক ফুটবলে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সাফল্য ধরা দিলেও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের দিনের পর দিন পেছনে হাঁটছে দল। মাঠে দর্শক নেই। ঘরোয়া লিগগুলোও ঠিকঠাক মতো হচ্ছে না। সব মিলিয়ে চাপের মুখেই আছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। যদিও কিছুদিন আগেই তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ঠিক পথেই আছে দেশের ফুটবল! কিন্তু এবার পরিসংখ্যান দিয়ে তরফদার মোঃ রুহুল আমিন জানালেন ঠিক পথে নেই বাংলাদেশের ফুটবল।

জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব বুধবার দাবী করলেন বাফুফে সভাপতি সত্য বলছেন না। চেয়ার আকড়ে ধরে রাখতে ভুল বোঝাচ্ছেন তিনি। সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন রাজধানীর মহাখালিস্থ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবল চলছে, এটা ঠিক। কিন্তু দেশের ফুটবল কিভাবে চলছে সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। জাতীয় দল কেমন সাফল্য করছে সেটা দিয়েই মূল্যায়ন করা হয় দলগুলোকে। ফুটবল আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। কিন্তু এই খেলাটা যেভাবে হওয়ার কথা ছিল ঠিক সেভাবে হয়নি। গত দশ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্পোর্টস অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু ফুটবল শুধু পিছিয়েছে। এটা আমাদের যারা ফুটবলের কর্তাব্যক্তি তাদের বড় ব্যর্থতা। আমাদের কাছে একটা পরিসংখ্যান আছে যে এ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে ভাল কিছু পাইনি। বর্তমানে যারা বাফুফেতে আছেন (কাজী সালাউদ্দিনের কমিটি) তারা দ্বায়িত্বে আছেন সেই ২০০৮ থেকে। এরপর থেকে জাতীয় দলের কোন ট্রফিই নেই। এরপর আসলে কোন কিছুই হয়নি। সাফে ভাল খেলতে পারলে দেশও এগিয়ে যেতে পারতো।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্য না থাকলেও বাফুফে সভাপতি মুখের কথায় ঠিকই এগিয়ে থেকেছেন বলে দাবী করলেন তরফদার রুহুল আমিন। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ও চট্টগ্রাম আবাহনীর কর্নধার বলছিলেন, ‘কাজের কাজ কিছু না হলেও আমরা বলেছি যে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলবো। আমরা যারা যারা ফুটবলের পেছনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করি, যে জাতি ফুটবলের দিকে তাকিয়ে আছে তাদের সঙ্গে এমন অসত্য কথা বলার কিছু আছে বলে আমার মনে হয়না।’

২০০৮ সালে কাজী সালাউদ্দিনের কমিটি দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিভাগ লিগ হয়েছে মাত্র ৪বার। দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আরো কম, তিনবার। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ হয়েছে ৯বার। এরমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ৭৯টি ম্যাচ খেললেও জিতেছে মাত্র ২০টিতে। ড্র ১৮ ম্যাচে। আর দল হেরেছে ৪১টিতে।

জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জানালেন, শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও ফুটবল স্থবির করে দিয়েছে এই কমিটি। তবে এবার তারা নিজেদের উদ্যােগে ৪০টি জেলায় লিগ করেছেন। এমন পরিসংখ্যান দিয়ে তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘দেখুন এই তথ্যগুলোতে চোখ রাখলেই বুঝতে পারবেন তাদের এগিয়ে যাওয়ার নমুনা। আমি যদি না পারি তবে আমাকে বলতে হবে যে আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। ব্যর্থতার পর ব্যর্থতা। কিন্তু এটা যদি স্বীকার করার মানসিকতা না থাকলে তো এই জায়গায় বসে ফুটবল উন্নয়ন সারা জীবনেও সম্ভব নয়। আমাদের ফুটবলে সঠিক কোন পরিকল্পনা নেই। হঠাৎ মনে যা আসলো তাই মুখে বলে দিলাম! এতসব কিছুর পরও যদি কেউ বলে ফুটবল সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে তাহলে এটা সত্য বলা হল না।’

এ অবস্থায় জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মূল্যায়ন হচ্ছে-ফুটবল খেলানোর দরকার ব্যস এ কারণেই খেলানো হচ্ছে। এখানে ভাল করার এগিয়ে যাওয়ার কোন পরিকল্পনাই নেই। এখানে সফলতা কিংবা ব্যর্থতা নিয়ে বর্তমান কমিটির মাথাব্যথা আছে বলে মনে করেন না তারা।

নতুন ফুটবলার তৈরির জন্য যে পাইপলাইন দরকার তা করতে না পারার জন্য বাফুফে কর্তাদেরই দায়ী করছেন তরফদার রুহুল আমিন। বলেন, ‘দেখুন দ্বায়িত্ব নিয়ে যদি ব্যর্থ হই, সঠিকভাবে পালন না করতে পারি তবে পরের দিনই পদত্যাগ করবো। আমরা ওই চেয়ারটাকে আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য যতো রকম মিথ্যা কথা বলা দরকার ভুল বোঝানো দরকার সবই করছি।’

তবে কাজী সালাউদ্দিন বারবারই দাবী করছেন দেশের ফুটবল ঠিক পথেই আছে। কিন্তু বুধবার তরফদার রুহুল আমিন দাবী করলেন, ‘জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য হচ্ছে উনি যে কথা বলছেন এটা সঠিক বক্তব্য নয়। যদি সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলতো আমাদের দেশের ফুটবলে সফলতা কেন আসছে না? ফুটবল তখনই এগিয়ে যাবে যখন জাতীয় দল ভাল খেলবে। উনি যে কথা বলেছেন সেটা সঠিক বলেন নি। উনি সবাইকে ভুল বোঝানোর জন্য বলছেন।’

তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিনের বক্তব্যে অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হতে যাচ্ছেন তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন।