ক্রীড়া প্রতিবেদকঃওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন ৮ উইকেটে ৩১৫ রান করেছে বাংলাদেশ।
তিনশ ছাড়ানোয় স্বস্তিতে দিন পার
বাংলাদেশ যখন ৩ উইকেটে ২১৬ রান নিয়ে চা বিরতিতে গেল, প্রথম ইনিংসে চারশ রানও অসম্ভব মনে হচ্ছিল না। কিন্তু বিরতির পর শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের তিন ওভারের মধ্যে হঠাৎ এলোমেলো হয়ে যায় স্বাগতিকরা। ১৩ রানের মধ্যে হারায় সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক-সহ মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসানের উইকেট।
৩ উইকেটে ২২২ থেকে বাংলাদেশের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ২৩৫! তিনশ তখন অনেক দূরের পথ বলে মনে হচ্ছিল। তবে অভিষিক্ত নাঈম হাসান ও দশ নম্বরে নামা তাইজুল ইসলামের দৃঢ়তায় তিনশ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের স্কোর।
দিন শেষ হওয়ার আগে নবম উইকেটে তারা দুজন খেলেছেন ৯৫ বল। আরো বড় বিষয়, যোগ করেছেন মূল্যবান ৫৬ রান। তাইজুল ৫৭ বলে ৩২ ও নাঈম ৬০ বলে ২৪ রানে অপরাজিত আছেন।
নবম উইকেট জুটিতে তাইজুল ইসলাম ও অভিষিক্ত নাঈম হাসানের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে তিনশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ।
৮৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ঠিক ৩০০ রান। তাইজুল ২২ ও নাঈম ২১ রানে অপরাজিত আছেন। দুজন ৪১ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন আছেন।
আবার রিভিউ নিয়ে রক্ষা তাইজুলের
দ্বিতীয়বারের মতো রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন তাইজুল ইসলাম। লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর বলে তাইজুলকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তাইজুল চান রিভিউ। টিভি রিপ্লে দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছিল বিশু ওভার-স্টেপ করেছেন। কয়েকবার রিপ্লে দেখে অবশ্য সঠিক ডেলিভারি বলেই রায় দেন তৃতীয় আম্পায়ার। পরে হক-আইতে দেখা যায়, বল স্টাম্প মিস করে যেত। ১৩ রানে জীবন পান তাইজুল।
রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন তাইজুল
লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুকে সুইপ করতে গিয়ে বল মিস করেন তাইজুল ইসলাম। কট বিহাইন্ডের আবেদনে আঙুল তুলে নেন আম্পায়ার। তাইজুল চান রিভিউ। আল্ট্রাএজে দেখা যায়, বল তাইজুলের ব্যাট ছুঁয়ে গিয়েছিল। শূন্য রানে জীবন পান তাইজুল।
মিরাজের বিদায়ে ভাঙল প্রতিরোধ
১৩ রানের মধ্যে দ্রত ৪ উইকেট হারানোর পর অষ্টম উইকেটে অভিষিক্ত নাঈম হাসানকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে দলকে বেশিদূর টানতে পারেনি এ জুটি। মিরাজের বিদায়ে ভেঙেছে ২৪ রানের জুটি।
বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বলে বোল্ড হয়েছেন মিরাজ। ৩১ বলে ৩ চারে ২২ রান করেন তিনি। তখন বাংলাদেশের স্কোর ৮ উইকেটে ২৫৯ রান। নাঈমের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।
সাকিবের বিদায়ে ভীষণ বিপদে বাংলাদেশ
নিজের টানা তৃতীয় ওভারে উইকেট পেয়েছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। এবার তার শিকার সাকিব আল হাসান। প্লেড-অন হয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৬৮ বলে ২ চারে ৩৪ রান করেন সাকিব।
গ্যাব্রিয়েলের তিন ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। একটা পর্যায়ে ৩ উইকেটে ২২২ থেকে বাংলাদেশের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ২৩৫! উইকেটে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও অভিষিক্ত নাঈম হাসান।
টিকলেন না মাহমুদউল্লাহ
শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের আগের ওভারে আউট হন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। ডানহাতি পেসারের পরের ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন মাহমুদউল্লাহও। বোল্ড হওয়ার আগে ৭ বলে ৩ রান করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
রিভিউ নিয়ে মুশফিককে ফেরাল উইন্ডিজ
মুখোমুখি প্রথম বলেই শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে চার হাঁকিয়ে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ডানহাতি পেসারের এক বল পরই ফিরলেন মুশফিকুর রহিম।
গ্যাব্রিয়েলের লেংথ বল ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন মুশফিক। বল আঘাত করে তার প্যাডে। এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে প্রথমে সাড়া দেননি আম্পায়ার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ চায় রিভিউ। তাতে পাল্টায় সিদ্ধান্ত। ৩ বলে ৪ রান করে ফেরেন মুশফিক।
বিরতির পরই ফিরলেন মুমিনুল
চা বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়েছেন সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক। পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের অফ স্টাম্পের বলে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
১৬৭ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় ১২০ রান করেন মুমিনুল। তার বিদায়ে ভাঙে ৬৯ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২২২ রান। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।
মুমিনুলের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের দারুণ সেশন
মুমিনুল হকের অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় সেশনটা দারুণ কেটেছে বাংলাদেশের। এই সেশনে ৩১ ওভার ৫ বলে ১ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১১১ রান যোগ করেছে স্বাগতিকরা।
চা বিরতির সময় বাংলাদেশের স্কোর ৫৮ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রান। মুমিনুল ১১৬ ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ২৭ রানে অপরাজিত আছেন। চতুর্থ উইকেটে ৬৩ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন আছেন এই দুজন।
মুমিনুল-সাকিব জুটির পঞ্চাশ
চতুর্থ উইকেটে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েছেন মুমিনুল হক ও সাকিব আল হাসান। ৫৮ বলে ছুঁয়েছে জুটির পঞ্চাশ। তাদের জুটিতে বাংলাদেশ ছুঁয়েছে দুইশ রান। ৫১ ওভার ৩ বলে ছুঁয়েছে দলীয় দুইশ। এরই মধ্যে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মুমিনুল।
৫২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০২ রান। মুমিনুল ১১০ ও সাকিব ২০ রানে অপরাজিত আছেন।
আরেকটি সেঞ্চুরিতে তামিমকে ছুঁলেন মুমিনুল
আগের ওভারে দেবেন্দ্র বিশুকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ৯২ থেকে পৌঁছে গিয়েছিলেন ৯৮-এ। পরের ওভারে মুখোমুখি প্রথম বলেই আরেক স্পিনার রোস্টন চেজকে পয়েন্ট ও কাভারের মাঝ দিয়ে চার হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন মুমিনুল হক। ১৩৫ বলে সেঞ্চুরি করতে ৯টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এটি মুমিনুলের টানা তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। এই মাঠে গত জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছিলেন জোড়া সেঞ্চুরি।
সব মিলিয়ে এটি মুমিনুলের ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি, যার চারটিই চলতি বছর। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা তামিম ইকবালকে ছুঁয়ে ফেললেন তিনি।
২০১৮ সালে মুমিনুলের চেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি নেই আর কারও। সমান চারটি সেঞ্চুরি করেছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এই দুজন ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান এ বছর দুটির বেশি সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
আবার বাজে শটে আউট মিথুন
টেস্ট অভিষেকে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন বাজে শট খেলে। অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে ক্যাচ দিয়েছিলেন স্লিপে। দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করে দলে জায়গা ধরে রাখেন মোহাম্মদ মিথুন। কিন্তু পরের টেস্টেই আবার আত্মঘাতী ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এমন এক শটে আউট হলেন, টেস্টে ক্রিকেটে যা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে!
লাঞ্চের আগে ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পর বিরতি থেকে ফিরে মুমিনুল হক ও মিথুনের জুটিটা তখন বেশ জমে গিয়েছিল। জুটির ফিফটি মাত্র ২ রান দূরে। তখনই লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুর বলটা মিথুন যেভাবে স্লগ সুইপে উড়াতে চাইলেন, মনে হবে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছেন! বল উঠে যায় আকাশে। সহজ ক্যাচ নেন উইকেটকিপার শেন ডোরিচ।
৫০ বলে ২ চারে ২০ রান করে ফেরেন মিথুন। তার বিদায়ে ভাঙে ৪৮ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫৩ রান। ৮৩ রানে অপরাজিত মুমিনুল হক। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
লাঞ্চের আগে ফিরলেন ইমরুল
জোমেল ওয়ারিকানের আগের বলেই চার মেরেছিলেন ইমরুল কায়েস। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পরের বলেই ফিরলেন সুনীল অ্যামব্রিসের দারুণ এক ক্যাচে।
লাঞ্চ বিরতির তখন মিনিট তিনেক বাকি। বাঁহাতি স্পিনারের লেগ স্টাম্পের বল পুশ করতে চেয়েছিলেন ইমরুল। ক্যাচ যায় শর্ট লেগে। বল অ্যামব্রিসের হাতে লেগে আটকে যায় শরীরে। এরপর তিনি হাতে জমান।
দুইবার জীবন পাওয়ার পরও বড় ইনিংস খেলতে পারলেন না ইমরুল। ফিরলেন ৮৭ বলে ৫ চারে ৪৪ রান করে।
ইমরুলের আউটের পরই লাঞ্চ বিরতিতে যায় দুই দল। প্রথম সেশনে ২৬ ওভার ৫ বলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০৫ রান। মুমিনুল হক ৫৩ রানে অপরাজিত আছেন।
ইমরুল-মুমিনুল জুটির সেঞ্চুরি
বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানকে রিভার্স সুইপ করে দুই রান নিলেন ইমরুল কায়েস। এই দুই রানে বাংলাদেশ ছাড়াল দলীয় শতরান। পূর্ণ হলো দ্বিতীয় উইকেট জুটির শতরানও।
দলীয় ১ রানে সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর জুটি বেঁধেছিলেন ইমরুল ও মুমিনুল হক। ১৫৭ বলে ছুঁয়েছে তাদের জুটির সেঞ্চুরি।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মুমিনুলের ফিফটি
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দারুণ এক ফিফটি করেছেন মুমিনুল হক। ব্যক্তিগত ৪৯ থেকে রোস্টন চেজের বল লং অফে পাঠিয়ে দুই রান নেওয়ার পথে ফিফটি পূর্ণ করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৬৭ বলে ফিফটি করতে ৭টি চার হাঁকান তিনি।
টানা দ্বিতীয় টেস্টে পঞ্চাশ পার করলেন মুমিনুল। সবশেষ টেস্টে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে খেলেছিলেন ১৬১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস।
ইমরুল-মুমিনুল জুটির পঞ্চাশ
দলীয় ১ রানেই সৌম্য সরকারের উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ফিফটি রানের জুটি গড়েছেন ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক। ৭৯ বলে ছুঁয়েছে জুটির পঞ্চাশ।
এবার নো বলে রক্ষা ইমরুলের
ইমরুল কায়েসের ভাগ্যটা আজ সুপ্রসন্নই বলতে হবে! শুরু থেকেই নড়বড়ে থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান যে আরো একবার জীবন পেলেন। এবার নো বলের কল্যাণে!
প্রথমবারের মতো আক্রমণে আসা বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানকে স্লগ সুইপে উড়াতে চেয়েছিলেন ইমরুল। তবে ধরা পড়েন ডিপ স্কয়ার লেগ ফিল্ডারের হাতে। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বোলার ওভার-স্টেপ করেছিলেন, নো বল!
১৬ রানে জীবন পান ইমরুল। এর আগে ৩ রানে থাকতেও একবার জীবন পেয়েছিলেন। সেবার স্লিপে ক্যাচ ছেড়েছিলেন ফিল্ডার।
ইমরুল-মুমিনুলের ব্যাটে প্রতিরোধ
ম্যাচের তৃতীয় বলেই সৌম্য সরকারের উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে প্রথম ঘণ্টায় আর কোনো বিপদ হতে দেননি ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক।
ইমরুল শুরুতে নড়বড়ে থাকলেও ধীরে ধীরে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। মুমিনুলকে অবশ্য শুরু থেকেই বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখা গেছে।
প্রথম ঘণ্টায় ১১ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ইমরুল ১৫ ও মুমিনুল ২৬ রানে অপরাজিত আছেন।
জীবন পেলেন ইমরুল
শুরু থেকেই ঠিকমতো খেলতে পারছিলেন না ইমরুল কায়েস। এর মধ্যেই একবার জীবন পেলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
পেসার কেমার রোচের অফ স্টাম্পের বল ব্যাটে খেলতে চেয়েছিলেন ইমরুল। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে যায় দ্বিতীয় স্লিপে। তবে সহজ ক্যাচটা নিতে পারেননি রোস্টন চেজ। ৩ রানে জীবন পান ইমরুল।
ফিরেই ডাক মারলেন সৌম্য
এক বছর পর টেস্টে ফেরার শুরুটা ভালো হলো না সৌম্য সরকারের। বাঁহাতি ওপেনার টিকলেন মাত্র দুই বল। মারলেন ডাক।
পেসার কেমার রোচের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন সৌম্য। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপার শেন ডোরিচের গ্লাভসে।
দলীয় ১ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন মুমিনুল হক।
নাঈমের অভিষেক
টেস্ট অভিষেক হয়েছে তরুণ অফ স্পিনার নাঈম হাসানের। দলে ফিরেছেন ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে চারজন স্পিনার ও একজন পেসার নিয়ে। একমাত্র পেসার হিসেবে খেলছেন মুস্তাফিজুর রহমান।
লিটন দাস নেই আগে থেকেই। সর্বশেষ টেস্টের একাদশ থেকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে খালেদ আহমেদ ও আরিফুল হককেও। অভিষেকের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সাদমান ইসলামকে।
আগের দিন তার খেলা নিয়ে একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে টস করতে নামলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ অধিনায়ক টস জিতে অনুমিতভাবেই নিলেন ব্যাটিং। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু সকাল সাড়ে নয়টায়।
প্রথম ইনিংসে নজর অধিনায়কের
দ্বিতীয় মেয়াদে অধিনায়ক হওয়ার পর দেশের মাটিতে এটিই সাকিব আল হাসানের প্রথম ম্যাচ। ম্যাচে ভালো করার জন্য প্রথম ইনিংসে ভালো করতে মুখিয়ে সাকিব। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকিয়ে অধিনায়ক।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে ভালো ব্যাটিং করার। দলের স্কোর যেন ভালো অবস্থায় রাখতে পারি। হাইস্কোরিং ম্যাচ নাও হতে পারে। মোটামুটি উইকেটও যদি হয় তাহলে তিনশ-প্লাস রান করতে পারলে খুবই ভালো।
‘আর যদি আরো ভালো ব্যাটিং উইকেট হয় ৪০০-৫০০ যদি করা যায়, এটা আমাদের জন্য সুবিধা হবে প্রথম ইনিংসে। সবাই চেষ্টা করবে ইনিংস বড় করার, সেটা ব্যক্তিগত দিক থেকে হোক আর দলীয় দিক থেকে হোক।’
বাংলাদেশের প্রতিশোধের সুযোগ
চলতি বছরের মাঝামাঝি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজটা দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছিল বাংলাদেশের জন্য। বিশেষ করে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচই হেরেছিল তিন দিনে। এবার নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের সামনে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ।