প্রতিবেদক, মোস্তাফিজ রিগানঃ ছাত্র-জনতার রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থানে ০৫ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। পালিয়ে গেলেও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে ফ্যাসিবাদের লক্ষ কোটি প্রেতাত্মার মানবরূপ। যারা হাসিনার এজেন্ডা বাস্তবায়নে লেগেছে উঠে-পড়ে। স্বৈরাচারের এমনই এক দোসর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল হক হানিফের ভাতিজীর স্বামী একরামুল হোসেন। যিনি এখনো জামাই আদরে বহাল তরবিয়তেই কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে।
শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা বলছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মী গা ঢাকা দিলেও বিতর্কিত এই প্রধান শিক্ষক বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাদের ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছেন তার আগের মতই ক্ষমতার দাপট। হয়ে উঠছেন বেপরোয়া। স্থানীয়রা ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক জানান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল হক হানিফের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তৎকালীন হরিনারায়ণপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে বড় অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে একজন কম্পিউটার প্রদর্শক হয়েও রাতারাতি হয়ে যান হরিনারায়ণপুর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে অফিস কর্মচারী ও অফিস সহকারী দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেন।
জানা যায়, ঢাকার এক অখ্যাত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ”দারুল ইহসান” থেকে জাল মাস্টার্স সার্টিফিকেট নিয়েই শুরু করেন শিক্ষকতা পেশা। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়কে জাল সার্টিফিকেট বিক্রয়ের অপরাধে ২০১৫ সালে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বন্ধ ঘোষণা করে। শিক্ষকতার মত মহান পেশায় একজন অসৎ জাল সার্টিফিকেটধারী শিক্ষক কিভাবে দাপটের সাথে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছে তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মাঝে। বিষয়টি প্রশাসন এবং বিএনপির সিনিয়র নেতা-কর্মীরা জানলেও কেন মুখ খুলছেন না, তা নিয়েও চলছে কানাঘুষা। অতিদ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ। তাঁরা বলছেন, জাল সনদধারী ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠানে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে।
বর্তমানে এই অবৈধ সনদধারী প্রধান শিক্ষক একরামুল কবির হরিনারায়ণপুর দরগাদাস আগরওয়ালা মহিলা কলেজের বিদুৎসাহী সদস্যপদ লাভের জন্য তদবির করছে বলেও শোনা যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার মেঝ ভাই মো. এনামুল কবির বর্তমানে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, তার জীবদ্দশায় বিএনপির কোন অঙ্গসংগঠনের কোন পদ-পদবি না থাকলেও দলীয়ভাবে একটি সুবিধাভোগী পরিবার, দলীয় কৌশলকে কাজে লাগিয়ে বাগিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। পক্ষান্তরে বঞ্চিত হয়েছে ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক চন্টুকে কাজে লাগিয়ে তার বড় ভাই এখন লক্ষীপুর খাতের আলী কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। এদিকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা থাকাকালীন সময় অত্র এলাকার বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতা যখন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে ঠিক তখন এই এনামুল কবির বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যের সাথে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনকে কাজে লাগিয়ে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির মত সোনার হরিণ বাগিয়ে নেন। পারিবারিক ভাবে তারা ক্ষমতাকে লালন করে বিএনপির সময় বিএনপি আবার আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগ। বর্তমান বিএনপির জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়কের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার জন্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছে বলেও জানা গেছে।
এই বিষয় বিএনপির ত্যাগী নেতাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আওয়ামী সুবিধাভোগীরা যদি বিএনপির কাধে আবার ভর করে তাহলে আমরা যারা ১৭ বছর জেল জুলুম খেটেছি তাঁদের লাভ কি হলো? বিষয়টি দু:খজনক বলে অনেকে মন্তব্য করেছন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সদয় দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে, এসব অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদক জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কৌশলে তা এড়িয়ে যাওয়ায় তাঁর পক্ষ থেকে কোন সদুত্তর মেলেনি।
(ধারাবাহিক চলবে)