ক্রীড়া ডেস্কঃ ব্যাটসম্যানরা দিয়েছিলেন জয়ের ভীত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে থামিয়ে রাখলেন। ব্যাট-বলের দারুণ পারফরম্যান্সে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে জিতল বাংলাদেশ।
১৮ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।
সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩০১ রান করে সফরকারীরা। জবাবে ৬ উইকেটে ২৮৩ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
হোল্ডারকে ফেরালেন মুস্তাফিজ: মুস্তাফিজের করা ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ১০ বলে ৯ রান করেন হোল্ডার। তার আউটের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৬ উইকেটে ২৬২।
পাওয়েলের হাফ সেঞ্চুরি: ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন রভম্যান পাওয়েল। ২৭ বলে ফিফটি ছুঁয়েছেন পাওয়েল। ৩ চার ও ৩ ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসটি সাজিয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
আড়াইশ ছাড়িয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৫.৫ ওভারে দলীয় আড়াইশ রান পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মাশরাফির স্লোয়ারে আউট হোপ: ৯৪ বলে ৬৪ রান তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন শাই হোপ। তাকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে পঞ্চম ধাক্কা দেন মাশরাফি। ডানহাতি পেসারের স্লোয়ারে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন হোপ। তার আউটের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৫ উইকেটে ২২৪।
দুইশ রানের চূড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪০.৫ ওভারে দলীয় দুইশ রানের স্বাদ পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৬০ বলে দরকার ১০৯ রান: জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে ১০৯ রান করতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। হাতে আছে ৬ উইকেট।
রান আউটে কাটা পড়লেন পাওয়েল: দলে ফিরে সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি কাইরন পাওয়েল। রান আউটে তার ইনিংসটি কাটা পড়ে মাত্র ৪ রানে। ৩৮তম ওভারের তৃতীয় বলে রান নিতে গিয়ে শাই হোপ ও তার ভুল বোঝাবুঝিতে একবার বেঁচে গিয়েছিলেন হোপ। কিন্তু এক বল পর আবারও ভুল বোঝাবুঝি দুই ব্যাটসম্যানের মধ্যে। কভারে থাকা মাশরাফির থ্রোতে উইকেট ভাঙেন মিরাজ। পাওয়েলের রান আউটের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৪ উইকেটে ১৭৯।
হোপের ফিফটি: লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ধীর গতিতে ফিফটি তুলেছেন শাই হোপ। ৭৭ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৪টি চারে পঞ্চাশ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন হোপ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ষষ্ঠ ফিফটি।
জুটি ভাঙলেন মিরাজ: গেইল ফেরার পর ৬৭ রানের জুটি গড়েছিলেন সিমরন হেটমায়ার ও শাই হোপ। বিপদজ্জনক হয়ে উঠা এ জুটি ভাঙলেন মিরাজ। একটু নিচু হওয়া ডেলিভারীতে বোল্ড হন ৪২ বলে ৩০ রান করা হেটমায়ার। তার আউটের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৩ উইকেটে ১৭২।
হোপ-হেটমায়ারের প্রতিরোধ: গেইলকে হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন শাই হোপ ও সিমরন হেটমায়ার। ৬৫ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েছেন তারা।
হোপের ক্যাচ ছাড়লেন রুবেল: লং অফে শাই হোপের সহজ ছাড়লেন রুবেল হোসেন। ৩৫ রানে জীবন পান ডানহাতি ব্যাটসম্যান। মিরাজের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে হাওয়ায় বল ভাসান হোপ। কিন্তু সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন রুবেল।
দেড়শ রান পেরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩১.৩ ওভারে দলীয় দেড়শ রান পেয়েছে বাংলাদেশ।
গেইল সাজঘরে: ভালো বোলিংয়ের পুরস্কার পেলেন রুবেল হোসেন। ২০তম ওভারে বোলিংয়ে এসে মাত্র ১ রান দিয়েছিলেন রুবেল। ২২তম ওভারে পেলেন সবথেকে বড় উইকেট। ডানহাতি এ পেসারের বলে লং অনে ক্যাচ দেন ৬৬ বলে ৭৩ রান করা গেইল। রুবেলের স্লোয়ার ঠিকমতো পিক করতে পারেননি গেইল। তুলে মারতে গিয়ে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান গেইল। তার আউটের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ২ উইকেটে ১০৬।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের একশ: ১৮.৩ ওভারে দলীয় শতরানের স্বাদ পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
গেইলের ৪৯তম হাফ সেঞ্চুরি: বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল ৪৯তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ৪০ বলে। দারুণ ব্যাটিং করছেন বাঁহাতি ওপেনার। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সাজিয়েছেন ফিফটির ইনিংসটি। চলতি সিরিজে এটি তার প্রথম হাফ সেঞ্চুরি।
লুইসকে ফেরালেন মাশরাফি: প্রথম দুই ওয়ানডের মতো তৃতীয় ওয়ানডেতেও এভিন লুইসকে ফেরালেন মাশরাফি। প্রথম দশ ওভারে ৫৩ রান তুলে ভালো শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১১তম ওভারের প্রথম বলে স্বাগতিক শিবিরে আঘাত করেন মাশরাফি। দুর্দান্ত এক সিম ডেলিভারীতে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন লুইস। ৩৩ বলে ১৩ রান করেন লুইস। তার আউটের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ১ উইকেটে ৫৩।
দারুণ শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের: পাহাড় সমান লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে’র প্রথম দশ ওভারে ৫৩ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ৫ ওভারে ২০ রান তুললেও পরের ৫ ওভারে ৩৩ রান পেয়েছে দুই ওপেনার ক্রিস গেইল ও এভিন লুইস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান: ২০১২ সালে খুলনায় ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৯২ রান করেছিল বাংলাদেশ। সেটাই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সেই রেকর্ড ভাঙল বাংলাদেশ। মাশরাফির দল ৬ উইকেটে করেছে ৩০১ রান।
শেষ ৯ ওভারে ৯৪ রান: শুরুতে ধীর গতিতে রান তুললেও শেষ দিকে ঝোড়ো গতিতে রান তুলে বাংলাদেশ। শেষ ৯ ওভারে ৯৪ রান যোগ করে টাইগাররা। পুরো কৃতিত্ব মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। তামিম ইকবাল ফিরে যাওয়ার পর ছয়ে ব্যাটিংয়ে আসেন মাশরাফি। এরপর ২৫ বলে তুলেন ৩৬ রান। মাহমুদউল্লাহও থেমে থাকেননি। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ৪৯ বলে ৬৭ রান। এছাড়া সাব্বির রহমান ৯ বলে ১২ এবং মোসাদ্দেক হোসেন ৫ বলে ১১ রান তুলে দলকে শক্তিশালী পুঁজি পেতে অবদান রাখেন। মাহমুদউল্লাহ তার ইনিংসটি সাজান ৫ চার ও ৩ ছক্কায়।
১২ রানে ফিরলেন সাব্বির: পরপর দুই বলে দুই চার মারার পর তৃতীয় বলে আউট হলেন সাব্বির রহমান। ৪৯তম ওভারে তাকে সাজঘরে পাঠান বাঁহাতি পেসার শেলডন কটরেল। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ২৭৯।
ছক্কায় মাহমুদউল্লাহর হাফ সেঞ্চুরি: কেমো পলের বল ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অনের ওপর দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠালেন মাহমুদউল্লাহ। ৪৮ রানে থাকা মাহমুদউল্লাহ পৌঁছে গেলেন ৫৪ রানে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ১৯তম হাফ সেঞ্চুরি।
ঝোড়ো ব্যাটিং মাশরাফির: সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজকে টপকে ছয়ে ব্যাটিংয়ে আসেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ছয়ে ব্যাটিংয়ে আসেন অধিনায়ক। এরপর ২২ গজের ক্রিজে ছোটোখাটো ঝড় তুলেন। ২৫ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। ৪ চার ও ১ ছক্কা হাঁকানো মাশরাফির ইনিংসটি থামান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। শর্ট বল শর্ট থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে খেলতে গিয়ে গেইলের হাতে ক্যাচ দেন মাশরাফি। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ২৫৩।
৩৬ বলে ৫০ রান: তামিম আউট হওয়ার পর ছয়ে ব্যাটিংয়ে আসেন মাশরাফি। পঞ্চম উইকেটে মাশরাফিকে সঙ্গ দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুজন মাত্র ৩৬ বলে তুলেন ৫০ রান।
বিশুর শিকার তামিম: সেঞ্চুরির পর ইনিংসটি বড় করতে পারলেন না তামিম। লেগ স্পিনার বিশুর বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে পাওয়েলের হাতে ক্যাচ দেন ১২৪ বলে ১০৩ রান করা তমিম। ৭ চার ও ২ ছক্কায় সাজিয়েছেন ইনিংসটি। তিন ম্যাচ সিরিজে মোট ২৮৭ রান করেছেন তামিম। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ২০০।
দুইশত রান বাংলাদেশের: ৩৮.৪ ওভারে দলীয় দুইশত রানের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
তামিমের ১১তম সেঞ্চুরি: ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়িয়ে সিরিজের দ্বিতীয় এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন তামিম ইকবাল। ৬৬ বলে ফিফটি ছোঁয়া তামিম তিন অঙ্কে পৌঁছান ১২০ বলে। ৭ চার ও ২ ছক্কায় সাজিয়েছেন সেঞ্চুরির ইনিংসটি। আশলে নার্সের বলে এক রান নিয়ে মাইলফলকে পৌঁছান দেশসেরা ওপেনার।
মুশফিককে ফেরালেন নার্স: ৩২তম ওভারের প্রথম বলে অফস্টাম্পে সরে গিয়ে স্লগ সুইপ করতে গেলেন মুশফিকুর রহিম। অফস্পিনার নার্সের বল মিডল স্টাম্পে পড়ে খানিকটা বাঁক খেয়ে আঘাত করে লেগ স্টাম্পে। বাজে শটে মুশফিক হারালেন নিজের উইকেট। ১৪ বলে ১২ রান করে আউট হন মুশফিক। তার আউটের সময়ে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ১৫২।
দেড়শ পেরিয়ে বাংলাদেশ: কেমো পলের শর্ট বল স্কুপ করে বাউন্ডারি হাঁকালেন তামিম। ১৪৮ থেকে বাংলাদেশের রান পৌঁছে গেল ১৫২ রানে। ৩০.৫ বলে বাংলাদেশ পৌঁঁছেছে দেড়শ রানে।
সাজঘরে সাকিব: পেস বোলারদের বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলছিলেন সাকিব। স্পিনারদের বিপক্ষে খানিকটা সমস্যা হচ্ছিল। তবুও সাকিব রান তুলছিলেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় আশলে নার্সের বলে স্লগ সুইপ খেললেন সাকিব। তাতেই সব শেষ বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের। ডিপ স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ ধরেন পল। ৪৪ বলে ৩৭ রান করেন সাকিব। দলীয় ৩৫ রানে এনামুল ফিরে যাওয়ার পর তামিমকে সঙ্গে নিয়ে ৮১ রানের জুটি গড়েন সাকিব। তার আউটের সময়ে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১১৬।
শতরান বাংলাদেশের: ক্রিস গেইলের করা ২৩তম ওভারের প্রথম বলে এক রান নিয়ে সাকিব বাংলাদেশকে দলীয় শতরানের স্বাদ দেন। এর আগে ১২.৩ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবাল
তামিমের আরেকটি ফিফটি: প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকান তামিম। তৃতীয় ম্যাচেও হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন দেশসেরা ওপেনার। ৬৬ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তামিম। ক্যারিয়ারে এটি তার ৪৩তম হাফ সেঞ্চুরি। হাফ সেঞ্চুরিকে কি সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারবেন তামিম?
সাকিব-তামিম জুটির আরেকটি ‘পঞ্চাশ’: এনামুল ফিরে যাওয়ার পর তিনে ব্যাটিং আসেন সাকিব। তামিমের সঙ্গে ফের জুটি বাঁধেন সাকিব। এরই মধ্যে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েছেন তারা। ৫৬ বলে জুটির পঞ্চাশ রান পূর্ণ করেছেন সাকিব-তামিম। এ নিয়ে দশমবারের মতো পঞ্চাশ রানের জুটি গড়লেন তারা।
পঞ্চাশ পেরিয়ে বাংলাদেশ: ১২.৩ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ রানের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
চতুর্থ উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়েন তামিম ও মাহমুদউল্লাহ
ব্যর্থ এনামুল: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচেই খেলবেন এমন আভাস আগেই পেয়েছিলেন এনামুল। অধিনায়কের আস্থা পেয়েছিলেন সফরের শুরু থেকেই। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করতে পারলেন না।
প্রথম ওয়ানডেতে দলকে বিপদে ঢেলে দিয়ে শূণ্য রানে আউট। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দ্রুত ২৩ রান করলেও দিন শেষে ওই রান কোনো কাজে আসেনি! বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ৩ রানে। শেষ ওয়ানডেতে ব্যাটিং যেন ভুলেই গিয়েছিলেন ডানহাতি ওপেনার। ৩০ বলে করেন মাত্র ১০ রান। পরের বলে আউট। পুরো সিরিজে রান মাত্র ৩৩।
বাদ পড়ার তিন বছর পর দলে ফিরে সাতটি ম্যাচ খেললেন এনামুল। সাত ম্যাচের স্কোর, ১৯, ৩৫, ১, ০, ০, ২৩ ও ১০। মোট রান ৮৮, গড়-১২.৫৭!
ব্যাটিংয়ে তামিম ও মাহমুদউল্লাহ
বাজে শটে ফিরলেন এনামুল: ইনিংসের প্রথম ওভারে শর্ট বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছিলেন এনামুল হক বিজয়। ফ্রি হিটে বেঁচে যান। কিন্তু পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে এনামুল ফিরলেন সাজঘরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে মিড অনে পাওয়েলের হাতে ক্যাচ দেন ৩১ বলে ১০ রান করা ডানহাতি ওপেনার। তার আউটের সময়ে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৩৫।
টস : টস জিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে প্রথম দুই ওয়ানডেতেও টস জিতেছিলেন মাশরাফি।
পরিবর্তন : শেষ ওয়ানডেতে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ। পরিবর্তন ছিল না দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও। প্রথম ওয়ানডের একাদশ নিয়েই খেলছে টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে দুটি পরিবর্তন এসেছে। কাইরন পাওয়েল এবং শেলডন কটরেল দলে এসেছেন। বাদ পড়েছেন জেসন মোহাম্মদ এবং আলজারি জোসেফ।

বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ : ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, শাই হোপ, সিমরন হেটমায়ার, জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), কাইরন পাওয়েল, শেলডন কটরেল, রভম্যান পাওয়েল, কেমো পল, দেবেন্দ্রা বিশু ও আশলে নার্স।
হেড টু হেড : ওয়ানডেতে দুই দল এর আগে মুখোমুখি হয়েছে ৩০ বার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ২০টিতে, বাংলাদেশ জিতেছে ৮টি, বাকি দুই ম্যাচের ফল হয়নি। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ম্যাচ হয়েছে ১১টি। যেখানে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৪টি। সেটাও ২০০৯ সালে, খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। বাকি ৮টিই জিতেছে ক্যারিবীয়রা।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
ডু অর ডাই ম্যাচ: তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ এ সমতা। আজ যেই দল জিতবে সেই দল জিতে যাবে ওয়ানডে সিরিজ। গায়ানায় প্রথম ওয়ানডে ৪৮ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একই মাঠে বাংলাদেশকে মাত্র ৩ রানে হারায় স্বাগতিকরা। আজ ডু অর ডাই ম্যাচে মুখোমুখি দুই দল। শেষ হাসিটা কে হাসবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক ঘন্টা।
৯ বছরের অপেক্ষা ঘুচবে বাংলাদেশের? বিদেশের মাটিতে যে ৯ বছর ধরে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় নেই বাংলাদেশের। সর্বশেষটি ২০০৯ সালে। ওই বছরের জুলাইয়ে খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করার পর আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪-১-এ জিতেছিল বাংলাদেশ। আজ মাশরাফিরদের অপেক্ষা কি ঘুচবে?
দুই বছর পর সেন্ট কিটসে ওয়ানডে: মাত্র ৮ হাজার ধারণা সম্পন্ন সেন্ট কিটস স্টেডিয়ামে সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি হয়েছিল ২০১৬ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকা স্বাগতিক দলকে হারিয়েছিল ১৩৯ রানে। ১১ মাস পর এখানে হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ।