সিদ্ধার্থ দে: স্কুল আর প্রিয় ক্রিকেট খেলা নিয়ে সময় কাটছে নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনীর একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘের। বড় হয়ে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সে ভর্তি হয়েছে ইন্দিরা রোড ক্রিকেট একাডেমিতে। সেখানে সপ্তাহে দুই দিন অনুশীলন করে।

বর্তমানে ইন্দিরা রোডের নানাদের বাড়িতে থাকেন মেঘ। তবে সেদিনের দুর্বিষহ স্মৃতির কথা তার কাছে জানতে চাওয়া শিশু মনে আঘাত দেওয়া ছাড়া কিছুই নয়। তাই তার মা-বাবার বিষয়ে কোনও কথাই হয়নি মেঘের সঙ্গে। সে কী করে, কী করতে পছন্দ করে–কথা হয় এসব নিয়েই। এসব প্রশ্নের জবাবে মেঘ তার বিভিন্ন শখ ও স্বপ্নের কথা জানায়। মেঘ জানায়, সে গুলশানের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল (বিআইটি) স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সে স্কুলে থাকে। সপ্তাহে রবি থেকে বৃহস্পতিবার তার ক্লাস থাকে। এছাড়া, শুক্র ও শনিবার সে ইন্দিরা রোড ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন করে।


ক্রিকেট খেলতে ভালো লাগে জানিয়ে সে বলে, ‘আমার ফিটনেস খুব ভালো। আমি পেস বল করি। অনেক গতি দিয়ে বল করতে পারি। ক্রিকেট খেলার সব সরঞ্জম আমার আছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমার এক নানু আমাকে একটি ব্যাট উপহার দিয়েছেন। আমি সেটা দিয়েই খেলি।’ক্রিকেট সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সারিন স্পোর্টসের (এসএস)সামগ্রী পছন্দ তার।

বিকেএসপিতে ভর্তি হতে চায় জানিয়ে তার মামা নওশের আলম রোমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে মেঘ বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল। তবে আমরা এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। লেখাপড়াটা নিয়মিত হোক। তবে সে যেটাই করতে চায় আমরা তার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। তার ক্রিকেটের প্রতি দুর্বলতা রয়েছে। ক্রিকেট খেলতে সে পছন্দ করে।

প্রিয় খাবারের কথা জানতে চাইলে মেঘ জানায়, তার সব খাবারই প্রিয়। যখন যে খাবার দেয়, তা-ই সে খায়। বিশেষ কোনও খাবারের প্রতি তার দুর্বলতা নেই। মেঘ বলে, ‘আমাকে যা দেয়, আমি তা-ই খাই।’কথা বলার সময় মেঘ তার নানাবাড়ির ড্রয়িং রুমে হাঁটছিল আর কথা বলছিল। এসময় কয়েকবার তাকে হাত ঘুরিয়ে পেস বোলিংয়ের ভঙ্গি করতেও দেখা যায়।

প্রসঙ্গত ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ‘শাহজালাল রশিদ লজ’ নামের বাড়ির চতুর্থ তলার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। বাবা-মা হত্যার সময় মেঘ বাসাতেই ছিল। সেই ছোট্ট মেঘ ঘটনার দিন তার নানার বাসায় ফোন দিয়ে জানিয়েছিল ঘটনাটি। ফোন পেয়ে সাগর ও রুনীর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উদ্ধার করা হয় তাদের দুজনের ক্ষতবিক্ষত লাশ। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে র‌্যাব তদন্ত করছে। তবে এখনও তদন্তের কোনও অগ্রগতি নেই।