নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘পার্লামেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষমতা কারো নাই। পার্লামেন্ট ইমম্যাচিউর হলে যারা বিচারকের আসনে বসেছেন তারাও ইমম্যাচিউর।’
বুধবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ছোট করার বিষয়টি তুলে ধরে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যখন বলা হয়, একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয় নাই। তখন ঘৃণা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু বলার থাকে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যখন কোর্ট থেকে বলা হয় যে, এই পার্লামেন্ট ইমম্যাচিউর, আমিও তো বলতে পারি, যারা বিচারকের আসনে বসেছেন তারা ইমম্যাচিউর। আই অ্যাম সরি টু সে লাইক দ্যাট। আমরাই সংবিধান প্রণয়ন করেছি। ২৭ বছর বয়সে এমএনএ হয়েছি। এই সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একজন আমি। আমরা পার্লামেন্টর সদস্য হয়েছি একাধিকবার। এই বারের পার্লামেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলে, এই পার্লামেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষমতা কারো নাই। কারণ এই পার্লামেন্ট ন্যায়ভাবে, গণতান্ত্রিকভাবে ও সাংবিধানিকভাবে গঠিত হয়েছে। রাজনীতিবিদদের ছোট করতে চায় কারা, সামরিক শাসকেরা। রাজনীতিবিদদের ছোট করতে চায় কারা, যারা একটি অনির্বাচিত সরকার চায় তারা। আমি এর থেকে বেশি বললাম না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে মেজর দুইটা পলিটিক্যাল পার্টি যদি ইলেকশন না করে এবং সেখানে যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হয়, তাহলে সেটা পরিপন্থী নয়। ড. কামাল হোসেন এত বক্তৃতা করেন। নিজের নামের সাথে বলেন বাহাত্তরের সংবিধান প্রণেতা। তিনিও তো বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। একটা যদি আনকন্টেস্টেড হয়, আর যদি ২০টা হয়, তাহলে একই কথা। আনকন্টেস্টেড হওয়া তো সংবিধানে আছে।’
ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ও ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে বড় বড় কথা বলেন। আমরাও লেখাপড়া করেছি। আমাদের বই আছে। পৃথিবীর কোন দেশে কী আছে আপনাকে দেখাতে পারব। ভারতকে আমরা অনুসরণ করেছি। যুক্তরাজ্যকে আমরা অনুসরণ করেছি। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, আমরা অনুসরণ করেছি। পৃথিবীর সব দেশেই বিচারকদের পার্লামেন্ট ইমপিচ করে। আর এটা এখানে করা যাবে না। আমাদেরকে ইমম্যাচিউর বলায় আমরা খুব ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছি। বাংলাদেশের নির্বাচিত এমপি শিরীন শারমনি চৌধুরী। তিনি সিপিএর সভাপতি। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচিত এমপিরা তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। সাবের হোসেন চৌধুরী আইপিইউর সভাপতি হয়েছেন। পৃথিবীর সমস্ত পার্লামেন্টের সদস্যরা তাকে ভোট দিয়েছেন।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বের পার্লামেন্ট বাংলাদেশের পার্লামেন্টকে স্বীকৃতি দেয়। আমাদের এখানে সুপ্রিম কোর্ট বলবে, এই পার্লামেন্ট ইমম্যাচিউর। আমরা নাকি লেখাপড়া জানি না। পার্লামেন্ট কনস্টিটিউশন শিখি নাই। এই পার্লামেন্টই প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করে এবং সেই প্রেসিডেন্ট বিচারকদের নির্বাচন করেন।’
বিচারপতিদের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কারো প্রতি আমার কোনো বৈরিতা নাই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তিনবার এই সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক আউটরিচ হয়েছেন। আসমা জাহাঙ্গীরে একটি লেখা পড়েছিলাম। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানে সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে কোনো বিচার হয় না। পাকিস্তানে বিচারকদের বিরুদ্ধে কোনো বিচার হয় না। বিচার হয় পলিটিশিয়ানদের বিরুদ্ধে। যার জন্য আজ পর্যন্ত পাকিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’
‘বাংলাদেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জিয়াউর রহমানের করা। বিচারপতিদের প্রতি বিনয়ের সাথে বলব, ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর তৎকালীন চিফ জাস্টিস হয়েছিলেন সায়েম। এরশাদ সাহেব যখন মার্শাল ল দিলেন, তখন রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন বিচারপতি আহসানউল্লাহ চৌধুরী। পরবর্তীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন আরেক বিচারপতি নুরুল ইসলাম। মার্শাল ল’র সাথে তারা হাত মিলিয়েছেন,’ বলেন তোফায়েল আহমেদ।
বাংলাদেশকে গত সাত-আট বছরে উন্নয়নের চরম শিখরে নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এ দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যে কথাগুলো বলে পার্লামেন্ট সম্বন্ধে, বিভিন্ন বিষয়ে, সেই কথাগুলোই এই রায়ের মধ্য দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে। আমরা তো মানুষ। আমরা তো শিক্ষিত। আমরাও তো বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা। আমাদেরকে যদি বলা হয়, আমরা ইমম্যাচিউর বা অপরিপক্ক, তাহলে আমাদের কষ্ট লাগবে না? এটা কোনো কথা হলো। আমাদের ছোট ভাই যারা ছিলেন তারাও তো বিচারক হয়েছেন। যারা আমাদের সাথে মিছিল ও কাজ করেছেন। তারাও তো বিচারপতি হয়েছেন। এখন তারা হলেন বিদ্বান আর আমরা হয়ে গেলাম অশিক্ষিত। এটা কোন কথা হলো!’
বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, প্রাক্তন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাবলু, বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান প্রমুখ।