নারীরা অধিকারের দাবি তুললেই হবে না, নারীদের অধিকার নিজেদের অর্জন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার গণভবন কমপ্লেক্স মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত জয়িতা টাওয়ারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তার মায়ের গল্প তুলে ধরে বলেন, একজন নারী পাশে থাকলে একজন পুরুষ কতদূর যেতে পারে বা একটা দেশ কতদূর যেতে পারে, এটাই তার প্রমাণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন রাজপথে পুরুষেরা নামতে পারেননি, আমাদের নারীনেত্রীরা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন। আইভি রহমানসহ আমাদের অসংখ্য নারীনেত্রী জীবনও দিয়েছেন। আমি তাদের স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, জাতির পিতা মানুষকে বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। বার বার কারাবরণ করেছেন। তিনিই আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার ডাকেই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। তিনিই দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতির শুরুটা করে দিয়ে গেছেন।

সরকারপ্রধান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমরা জয়িতা ফাউন্ডেশন করেছি। নারীদের উৎপাদিত পণ্য পদর্শনীর জন্য এই টাওয়ার করেছি। গণভবনের মাটি আজ ধন্য, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দক্ষ ও সফল নারী উদ্যোক্তারা এখানে এসেছেন।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক ও জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান।

এর আগে সকাল ১০টায় ধানমন্ডিতে নবনির্মিত জয়িতা টাওয়ারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সেখানে জামদানি গ্যালারি ও জয়িতা মার্কেট প্লেসও উদ্বোধন করেন তিনি।