সস্ত্রীক খুন হয়েছেন ইরানের কিংবদন্তি পরিচালক দারিয়ুশ মেহরজুই। শনিবার (১৪ অক্টোবর) ইরানের আলবুর্জ প্রদেশের নিজ বাড়িতে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর প্রকাশ করেছে।
রোববার (১৫ অক্টোবর) আলবুর্জ প্রদেশের প্রধান বিচারপতি হোসেন ফাজেলি-হরিকান্দি জানান, মেহরজুই এবং তার স্ত্রী ওয়াহিদেহ মোহাম্মদিফারকে শনিবার রাতে আলবুর্জের জিবাদাশত শহরের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিচালকের কন্যা মোনা মেহরজুই তার বাবা-মায়ের মৃতদেহ প্রথম দেখতে পান।
মোনা ইরানের রাজধানী তেহরানে বসবাস করেন। শনিবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে তাকে তার বাবা ডিনারের জন্য নিমন্ত্রণ করেন। ৩০ কি. মি. দূর থেকে বাড়িতে পৌঁছান রাত ১০টা ২৫ মিনিটে। মোনা এসে দেখেন তারা বাবা-মা মারা গেছেন। তাদের গলায় ছুরি চালিয়ে খুন করা হয়েছে। বর্তমানে এ মামলার তদন্ত চলছে বলেও জানান এই বিচারপতি।
১৯৩৯ সালের ৮ ডিসেম্বর তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন দারিয়ুশ। ১৯৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে চলচ্চিত্রে বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। তার নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘ডায়মন্ড ৩৩’। এটি ১৯৬৭ সালে মুক্তি পায়।
ইরানের সত্তরের দশকের অন্যতম পরিচালক মেহরজুই। ইরানি সিনেমায় বাস্তববাদের অবতারণা যেসব নির্মাতা করেছেন, তাদের অন্যতম মেহরজুই। এজন্য তাকে বার বার জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। আশির দশকে ইরানে বিপ্লবে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন মেহরজুই।
আশির দশকের গোড়ার দিকে ইরান ছেড়ে প্যারিসে পাড়ি জমান মেহরজুই। ফ্রান্সে ইরানি শরণার্থীদের সঙ্গেও জীবনযাপন করেছেন তিনি। নির্মাণ করেন তথ্যচিত্রও। তার কয়েক বছর পর ইরানে ফিরে আসেন মেহরজুই।
দারিয়ুশ মেহরজুই নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো— ‘দ্য কাউ’, ‘হামুন’, ‘লেইলা’ প্রভৃতি।