প্রিয়আলো ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে তৃতীয় একটি জোট গঠনের লক্ষ্যে নতুন একটি গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। এর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে। তাঁকে সহায়তা করবেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। নতুন এই জোটের নাম এখনো ঠিক করা হয়নি।
গতকাল বুধবার রাতে বারিধারায় বিকল্প ধারার সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত বলে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা কালের কণ্ঠ পত্রিকার বরাত দিয়ে প্রিয় আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে বি চৌধুরী ছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের ছোট ভাই জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ছিলেন।
এর আগে গত ১৩ জুলাই রাতে আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় বি. চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী, মান্না, সুব্রত চৌধুরীরা বৈঠকে এক হয়েছিলেন, যাতে বাগড়া দিয়েছিল পুলিশ।
গতকাল বি চৌধুরীর বাড়ির তৃতীয় তলায় বৈঠকের এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বৈঠকের মধ্যমনি হয়ে ছিলেন বি চৌধুরী; এক সোফায় রবের পাশেই বসেন জিএম কাদের। জিএম কাদের বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি (বি চৌধুরী) গণ্যমান্য ব্যক্তি, তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সেজন্য আমি এসেছি। অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
’
বি চৌধুরী বলেন, যারা দেশ নিয়ে ভাবে, দেশের কথা চিন্তা করে, তারা সবাই একসঙ্গে বসেছিলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে কিছু আলোচনাও হয়। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক জোট করা যায় কিনা, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীও বৈঠকে ছিলেন। আ স ম রবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী তানিয়া রবও ছিলেন। কাদের সিদ্দিকী ঢাকার বাইরে থাকায় বৈঠকে থাকতে পারেননি বলে বিকল্প ধারার এক নেতা জানান।
বি চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী ও রব ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এনডিএফ জোট গঠন করেছিলেন। বিএনপির মতো তাঁরাও ওই নির্বাচন বর্জন করেন। বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পরও নানা নাটকীয়তার পর সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এরশাদ; তবে তাঁর ভাই জি এম কাদের ভোট বর্জনের পক্ষেই ছিলেন।