সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এবং ঢাকা-১৩ আসনের এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক

 

প্রিয়আলো ডেস্কঃ ২০১২ সাল জুলাই মাস। সন্ধ্যায় ঢাকার আকাশে জমল কালো মেঘ। রাত আটটা থেকে শুরু হলো অঝোর ধারায় বৃষ্টি। বিরতিহীনভাবে বৃষ্টি চলল পরদিন বিকেল পর্যন্ত। কিন্তু কী অবাক কাণ্ড ঢাকায় দু-একটি স্থান ছাড়া কোথাও তেমন জলজট নেই। শান্তিনগরে পানি জমে নেই,পানি জমে নেই মতিঝিলে। রাতে বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ফোন করলেন ওয়াসার এমডিকে। বললেন, ‘রাতেই সব পাম্প হাউজগুলো চালু করতে হবে।’ এমডি মৃদু আপত্তি করলেন, উত্তরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বললেন,‘বাঙালির হাত হলো তিনটা,ডান হাত,বাম হাত আর অজুহাত। আমাকে কোনো অজুহাত শোনাবেন না।’ এরপর তিনি নিজেই বেরুলেন, সব পাম্প হাউজ চালু করার ব্যবস্থা করলেন। সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করলেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, কঠিন সময়ের পরীক্ষিত কর্মী। ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রমাণ করেছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেয়ে আর কোনো বড় দক্ষতা নেই।

২৬ তারিখে ঢাকা শহর যখন পানিতে ডুবে গেলো তখন নিজেই নিজের মাথার চুল ছিড়লেন আর আর্তনাদ করলেন। একটি অনলাইন দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে নানক ২০১২ এর স্মৃতিচারণ করে বললেন ‘আমাদের খাল ভরাট, এটা আমরা জানি। আমাদের বিকল্প ব্যবস্থাটা ভালো। এটা হলো কৃত্রিম পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় জমলে পানিটাকে পাইপ দিয়ে টেনে নেওয়া হয়। কিন্তু যদি অনেক পানি জমে তাহলে পানি নিস্কাশন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কাজটা শুরু করতে হয় বৃষ্টি শুরু হবার পর থেকেই।

নানক বলেন, ‘জলাবদ্ধতার দায় অবশ্যই ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশন উভয়কেই নিতে হবে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘রাতে পাম্প চালু হলো না কেন? সবাই কি ঘুমিয়ে ছিলেন?’

সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘দিনের বেলা জলাবদ্ধতা পরিদর্শন না করে মেয়রদের উচিত ছিল রাতেই পাম্পগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া। ওয়াসাকে অনুরোধ করা।’

নিজের মন্ত্রীত্বের সময়ের স্মৃতিচারণ করে নানক বলেন, ‘আমাদের পাম্পগুলো খুবই ভালো। কিন্তু সমস্যা হলো মেশিনম্যানদের ঠিকমতো পাওয়া যায় না। অনেক মেশিনম্যানই বসদের ফাইফরমাশ খাটেন। এজন্য ওয়াসার উপর চাপ সৃষ্টি করা ছিল মেয়রদের দায়িত্ব।’

নানক বলেন, দুর্যোগে কেউ কারো অপেক্ষায় বসে থাকে না। দায়িত্ব নিলে সেটা পালন করতে হবে। অন্যের ওপর দোষারোপ করে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।’

নানক বলেন, ‘শুধু সংকট এলেই আমরা কেন ভাবি? জুন-জুলাই আগস্টে অতিবৃষ্টি হয় আমরা জানি। আমরা কেন প্রস্তুতি নেই নাই?’নিজের দায়িত্বকালীন অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই আমরা ওয়াসার সঙ্গে বসেছিলাম, করণীয় ঠিক করেছিলাম, কোথায় কোথায় সমস্যা হতে পারে তা চিহ্নিত করেছিলাম।’

মানুষ অতীত ভুলে যায়। বর্তমানকে আকড়ে থাকে। ২০১০, ২০১১, ২০১২-তে আওয়ামী লীগের মেয়র ছিল না। রাজধানীতে বড় জলাবদ্ধতাও ছিল না। ওই অর্জনগুলো মুছে গেছে। এখন ব্যর্থতার মধ্যে একে অন্যেকে দোষারোপ করছে। কিন্তু মানুষ চাইছে সমাধান। নানক বলেন, ‘সমাধান সহজ। মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসগ করতে হবে। গ্যালারি শো করে সমস্যার সমাধান হবে না।’