আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য হুমকি-পাল্টাহুমকির মাত্রা ক্রমেই আরো চড়া হচ্ছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স উত্তর কোরিয়াকে শাসিয়ে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধৈর্য্যের পরীক্ষা’ না করতে বলেছেন।

এদিকে, উত্তর কোরিয়া হুংকার দিয়ে বলেছে, ‘স্বৈরাচারিতার দিন শেষ।’ উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থায় রয়েছে।

মাইক পেন্স সোমবার দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী দক্ষিণ কোরীয় সীমান্তাঞ্চল পরিদর্শন করার পর উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার কথা জানালো।

অন্যদিকে, মাইক পেন্স আবারও হুঁশিয়ার করেছেন, উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে সব ধরনের বিকল্প প্রস্তুত রেখেছে তারা। এর অর্থ হলো- প্রয়োজন হলে সামরিক হামলা চালাতেও প্রস্তুত তারা।

উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিন হং-চোল সোমবার আলজাজিরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, খোলা চোখে বিশ্বের দিকে তাকানো। সামরিক শক্তির আস্ফালন দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একনায়কগিরির দিন আর নেই।’

সিন হং-চোল আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় থাকা ওই ব্যবসায়ীরা যদি সামরিক শক্তি বা নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে আমাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার পায়তারা চালায়, তবে তারা দেখতে শিগগিরই দেখতে পাবে, এ ধরনের হুমকি কোনো কাজে আসে না। এমন পায়তারা চালিয়ে ওবামা প্রশাসনও ব্যর্থ হয়েছে।

‘আমরা যদি আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাতের কোনো লক্ষণ দেখি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সেনাবাহিনী নির্দয় হামলা চালাবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে তাদের এ ধরনের ঘাঁটি যত সময় থাকবে, তত সময় হামলা চালানো হবে।’

উত্তর কোরিয়ার এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরো বলেন, আমাদের কাছে থাকা পারমাণবিক অস্ত্র কোনো ধোঁয়াশা নয়। এসব এমন কোনো জিনিস নয়, যা আমেরিকার ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। ফলে তা কখনো সমঝোতার টেবিলে উপস্থাপন করা হবে না।