আটলান্টিক সাগরের তলদেশে টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া টাইটান সাবমেরিনে থাকা পাঁচ আরোহীর কেউই জীবিত নেই।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। একইভাবে খবরটি নিশ্চিত করেছে ওই সাবমেরিন পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ওশেনগেট’।
ধারণা করা হচ্ছে, পানির প্রচণ্ড চাপে ডুবোযানটি বিধ্বস্ত হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার টাইটানিকের কাছে ছোট আকারের সাবমেরিনটির কিছু ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করে উদ্ধারকারী দল। এরপরই খবর আসে ওই ধ্বংসাবশেষ টাইটান থেকে খুলে পড়া কিছু অংশ। তখনই অনেকটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে টাইটান এবং ভেতরে থাকা পাঁচজনের পরিণতি। তারপরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কানাডা, ফ্রান্সসহ আরও কয়েক দেশের উদ্ধারকারী দল।
সব তথ্য মিলিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে টাইটানের পরিণতি সম্পর্কে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন কোস্ট গার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাগার।
এ সময় টাইটান ধ্বংসের কারণ কী তা স্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া পাঁচ অভিযাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা যাবে কি না, এ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে উদ্ধার অভিযানের শুরুতে সমুদ্রের তলদেশ থেকে শব্দ পাওয়ার পর যাত্রীরা জীবিত আছেন বলে আশা জেগেছিল। পরে বিশেষজ্ঞরা জানান, এই শব্দ নিখোঁজ সাবমেরিন থেকেই যে এসেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পর্যটকবাহী সাবমেরিনে যারা ছিলেন তারা হলেন– ৫৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ ধনকুবের হামিশ হার্ডিং, ব্রিটিশ-পাকিস্তানি ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ (৪৮) ও তার ছেলে সুলেমান দাউদ (১৯), ওশেনগেটের প্রধান নির্বাহী ৬১ বছর বয়সী স্টকটন রাশ। পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, ৭৭ বছর বয়সী নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ডাইভার পল-হেনরি নারজিওলেট।
উল্লেখ্য, গত রোববার যাত্রা শুরুর একঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরই পানির উপরে থাকা মূল জাহাজের সঙ্গে ডুবোযানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে চলে উদ্ধার অভিযান। কিন্তু শেষপর্যন্ত সবাইকে হতাশ হতে হলো। টাইটানিকের মতোই একই পরিণত ঘটলো টাইটানেরও।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স