আরজু মিরানঃ  ঢাকার বাইরে যে কোনো জায়গায় যাওয়া মানে যাতায়াত, অবস্থান, ভ্রমণ সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। খরচও একটি বড় ব্যাপার। অথচ রাজধানীর আশপাশেই আছে মনোরম কয়েকটি জায়গা যেগুলো একদিনেই ঘুরে আসা যাবে। ভ্রমণপিপাসু পাঠকদের জন্য তেমনই কয়েকটি স্থানের তথ্য দেয়া হলো।

 

মৈনট ঘাট : খুব ভোরে মৈনট ঘাটে বসে আপনি দেখতে পাবেন সারা রাত পদ্মা নদীতে জেলেদের শিকার করা মাছের বাজার। মৈনট ঘাট দর্শনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। তখন রাস্তার দুই পাশের নিম্নভূমি, যেখানে বর্ষার আগে বিস্তীর্ণ ভূমিজুড়ে বাদামের চাষ করা হয়, তার সবই বর্ষায় পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। বর্ষার আগেও এর সৌন্দর্যের কমতি নেই।

ঢাকার পাশে ছোট্ট কক্সবাজার ” মৈনাট ঘাঁট “

যেভাবে যাবেন : মৈনট ঘাটে যাওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হচ্ছে গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যমুনা পরিবহনে চেপে বসা। ৯০ টাকা ভাড়া। দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টার বিনিময়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মৈনট ঘাট।

 

 

গোলাপ গ্রাম : নৌপথে নদী পার হয়ে ছোট্ট একটি গ্রাম। তবে গ্রাম হলেও পুরোটাই গোলাপের বাগান দিয়ে পরিপূর্ণ। এখানে গেলে আপনার মনে হবে যেন বিশাল একটি গোলাপের বাগানে ভেতর আপনি ঘুরছেন। সরু পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখবেন রাস্তার দুপাশ গোলাপের বাগান দিয়ে ঘেরা।

গোলাপ গ্রাম সাদুল্লাহপুর

 

যাতায়াত ব্যবস্থা : মিরপুর দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে সাহদুল্লাহপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে ৩০ মিনিট পরপর ইঞ্জিনচালিত বোট ছেড়ে যায়। সাহদুল্লাহপুর যেতে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা লাগবে। ভাড়া জনপ্রতি ২০-৩০ টাকা।

 

পানাম ও মেঘনার পার : পানাম সিটি ঢাকা শহর থেকে একদমই আলাদা এবং অন্য রকম। পুরনো বাড়িগুলো দেখে দেখেই দিন পার হয়ে যাবে। ঈসা খাঁর আমলের বাংলার রাজধানী পানামনগর। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বারো ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। কাছেই মেঘনা নদী। নদীর ওপারে গেলেই দেখবেন কাশফুলে ঘেরা বিস্তৃত মাঠ!

পানাম সিটি ঢাকা শহর থেকে একদমই আলাদা এবং অন্য রকম

 

যাবেন যেভাবে : গুলিস্থান থেকে মোগরাপারা এর যেকোনো বাসে সোনারগাঁও পরিবহনে চেপে মোগরাপারা। সেখান থেকে অটোরিকশাযোগে দশ-পনেরো মিনিটে পানাম নগরীতে পৌঁছা যায়।

 

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি : দেশের সবচেয়ে বড় জমিদার বাড়িগুলোর একটি এটি। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়ির পুরোটাই মনোরম পরিবেশে ঘেরা!

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

 

যেভাবে যাবেন : ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জ বা সরাসরি সাটুরিয়া যাওয়ার বাস পাওয়া যাবে। জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৬০-৭০ টাকা। সাটুরিয়া পৌঁছে সেখান থেকে রিকশা বা লোকাল সিএনজিতে করে জমিদার বাড়ি যাওয়া যাবে। জনপ্রতি ভাড়া ১০ টাকা। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি রোববার পূর্ণদিবস আর সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে। অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও বন্ধ থাকে। জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ১০ টাকা।

 

মহেরা জমিদার বাড়ি : টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদার বাড়ি সবচেয়ে সুন্দর। এটি তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি। বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্ন রকম পাখি আপনাকে মুগ্ধ করবে। তিনটি স্থাপনার প্রতিটিতে অসাধারণ কারুকাজও দেখার মতো।

গাছের আড়াল থেকে মহেরা জমিদারের শ্বেত বাড়ি

যেভাবে যাবেন : মহাখালি থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার অনেক বাস রয়েছে। মহেরা জমিদার বাড়ির বর্তমান নাম ‘মহেরা পুলিশ ট্রেইনিং সেন্টার’। ওখানে যেতে হলে নামতে হবে নাটিয়া পাড়া বাস স্ট্যান্ডে। সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। তবে রাস্তায় জ্যাম থাকলে ভিন্ন কথা। নেমে একটা অটো রিকশা নিয়ে যেতে হবে।  ভাড়া ২০-৩০ টাকা। জমিদার বাড়ি ঢুকতে টিকেট কিনতে হবে। জনপ্রতি ২০ টাকা।

 

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক : সাফারি পার্কে বন্য প্রাণীরা স্বাধীনভাবে বিচরণ করে।পার্কের গাড়িতে চড়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পাবেন বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, আফ্রিকান চিতা, চিত্রা হরিণ, জলহস্থি, নীল গাই এবং আরও অনেক বিদেশী বন্যপ্রাণী। তবে সেখানে ঢুকতে ২০০ টাকা দিয়ে জন প্রতি টিকিট কাটতে হয়। সাফারি কিংডমে রয়েছে প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, জিরাফ ফিডিং স্পট ও পেলিকেন আইল্যান্ড। মজার বিষয় হলো এখানে বিশাল জায়গা নিয়ে পাখিদের রাখা হয়েছে। তৃণভোজী এবং ছোট মাংসাশী প্রাণী, সরিসৃপ ও উভচর প্রাণীও দেখতে পাবেন। এছাড়া তৈরি করা হয়েছে হাতির আশ্রম।

যেভাবে যাবেন : গাজীপুরে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত বাঘের বাজার। সেখান থেকে আরও সামনে কিছু দূর এগুলোই দেখা যাবে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের গেইট।