39

ছবিঃ ইন্টারনেট ফাইল।

লন্ডন:‌ ছোট পোশাক?‌ মদ্যপ অবস্থা?‌ নিজে থেকে বাড়িতে ডেকে এনেছেন কোনও পুরুষ বন্ধুকে?‌ তাহলে সেই মহিলাকে ধর্ষণ করাই যায়। না , মায়ানমারের বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকার হিংস্র ভিক্ষুরা নয়, এমন মনোভাব ইউরোপের চতুর্থাংশের বেশি নাগরিকের। শুধু তাই নয়, এঁদের মধ্যে ২০ শতাংশই মনে করেন, ধর্ষণের পরে উল্টে ধর্ষিতার ওপরে চাপ তৈরি করা কোনও অন্যায় নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার কমিশনের একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই চমকে দেওয়ার তথ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশে ৩০ লক্ষ মানুষের ওপরে এই সমীক্ষা করা হয়েছিল। দেখা গেছে, মহিলাদের সম্ভ্রম নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদাসীন বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, লাটভিয়া এবং হাঙ্গেরির পুরুষরা।

তুলনামূলকভাবে মহিলাদের সম্মান দেওয়ায় এগিয়ে আয়ার্ল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং স্পেন। আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৭ শতাংশ পুরুষ এ-‌ও মনে করেন, কোনও মহিলা যদি রাতে নির্জন রাস্তায় একা হাঁটেন, তাহলে ধরেই নেওয়া যেতে পারে তিনি যৌনসঙ্গী খোঁজার জন্যই পথে নেমেছেন। আর যদি কোনও পুরুষ মাদকের ঘোরে কোনও মহিলার শ্লীলতাহানি করেন, সেটাকে শাস্তিযোগ্য বলে মনে করেন না ৪৩ শতাংশ পুরুষ। মহিলাদের সঙ্গে অশ্লীল রসিকতা করাটাকে ৫১ শতাংশ অপরাধ মনে করেন না। সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হল, এঁদের মধ্যে ১৩ শতাংশ মনে করেন কোনও পার্টিতে জোরজবরদস্তি বিবস্ত্র করে নাচানো নাকি কোনও অপরাধের পর্যায়েই পড়ে না। শিক্ষা, বিজ্ঞান সংস্কৃতিতে এগিয়ে থাকা ইউরোপেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোতে মহিলাদের কী অবস্থা হচ্ছে, সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।