ক্রীড়া প্রতিবেদক, মিরপুর থেকে : ওয়ানডেতে অভিষেকের পর এমনভাবেই সৌম্য সরকার নিজেকে চিনিয়েছেন যে তাকে বাদ রেখে একাদশ তৈরি করা সম্ভব ছিল না! বাংলাদেশ পেয়ে গিয়েছিল তামিম ইকবালের সেরা পার্টনার! কিন্তু দিন গড়াতেই অনেক কিছুই ওলট-পালট।
যেভাবে সৌম্য শুরু করেছিলেন, সেভাবে এখন খেলতে পারছেন না। ক্রিকেটের ভাষায় একে বলে ‘ব্যাড-প্যাচ’। ব্যাড-প্যাচ থাকতেই পারে, কিন্তু প্রতিভাবান ও পরীক্ষিতরা দিনের পর দিন ভালো করবেন না, তা মেনে নেওয়া কঠিন।
সৌম্যর অভিষেকের পর বাংলাদেশ মোট ২১টি ওয়ানডে খেলেছে। ৩টি বাদে প্রতিটিতেই ছিলেন সৌম্য। যে ৩টি খেলতে পারেননি সেগুলো ইনজুরির কারণে। বাঁম সাইড স্ট্রেইন ইনজুরিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে পারেননি ৩ ওয়ানডে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই তিন ওয়ানডেতে খেলেছিলেন লিটন কুমার দাস ও ইমরুল কায়েস।
শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলছে বাংলাদেশ। ১৯ ওয়ানডে খেলা সৌম্য এবারই প্রথম দল থেকে বাদ পড়েছেন। ধারাবাহিকভাবে খারাপ খেলার কারণে সৌম্যকে একাদশের বাইরে রেখেছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। তার বদলে সুযোগ পেয়েছেন ইমরুল কায়েস।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে সৌম্য সরকারের রান ৩১ রান। যেখানে ইমরুল এক ম্যাচে করেছিলেন ৩৭ রান। পাশাপাশি ইংলিশদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ১২১ রানের নজরকাড়া ইনিংস খেলে ইমরুল একাদশে জায়গা পেতে জোড়াল দাবি করেন!
আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ তিন ওয়ানডের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি ওয়ানডেতে সৌম্য সরকারের রান ছিল ৮৮* ও ৯০। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতেও ভালো করতে পারছিলেন না এ ওপেনার। জিম্বাবুয়ে সিরিজ, এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে সৌম্য ১৬টি ম্যাচ খেলেছেন। রান করেছেন ২৪৪। এ ছাড়া ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও ভালো করতে পারেননি সাতক্ষীরার এ তারকা। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ১৫ ম্যাচে করেছেন ৩৪৯ রান।
সব মিলিয়ে সৌম্য সরকার ব্যাট হাতে খারাপ সময় পার করছেন। অধিনায়ক, সিনিয়র ক্রিকেটার, কোচ, টিম ম্যানেজম্যান্টকে পাশে পেলেও সৌম্য সরকার আপন কক্ষপথে ফিরে আসতে পারেননি।
সতীর্থরা যখন ইংলিশদের বিপক্ষে খেলছিলেন তখন পানি-তাওয়াল টানার কাজ করছিলেন সৌম্য। কখনো মাশরাফি, কখনো থার্ডম্যানে দাঁড়ানো তামিম ও তাসকিনকে বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে পানি পান করিয়েছেন। এ দিনটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন না সৌম্য নিজেও। কী হারিয়েছেন তা বুঝে নিশ্চিত ফিরে আসবেন নিজের জায়গায়!