জ্যেষ্ঠ
প্রতিবেদক :খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া না দিয়ে উল্টো বিএনপির বিরুদ্ধে ‘নেতিবাচক প্রচারণা চালানো’য় গুলশানের ঘটনার সঙ্গে সরকার সম্পৃক্ত কি না- সেই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শুক্রবার দুপুরে ‘জাতীয় নাগরিক সংসদ’ আয়োজিত ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় নিঃশর্ত জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে কথা বলেন গয়েশ্বর।
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে বিএনপি নেত্রী জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতারা যে নেতিবাচক কথা বলছেন, তাতে জনগণের সন্দেহ আরো প্রকট হচ্ছে যে, ওই ঘটনার সাথে সরকার সম্পৃক্ত কি না? যদি না হয়, তাহলে সঙ্কট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে না কেন?’
গুলশান হামলা পর বিএনপিকে দোষারোপ করে ক্ষমতাসীনদের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে দলটির এই নীতি নির্ধারক বলেন, ‘গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথম দিকে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের মুখ বন্ধ ছিল। দুই-তিনদিন জামায়াত-শিবির-বিএনপির নাম আসে নাই। দশ দিন রিহার্সেল দিয়ে তারা নাসিম-ইনুদের মাঠে নামালো। সকলের ভাষা এক- খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদী। মানুষের কাছে এটা চরম বিরক্তিকর।’
পরপর দুটি সন্ত্রাসী হামলায় দেশবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জাতির এই দুঃসময়েও সরকারের দাম্ভিকতা শেষ হয় না। অথচ ওই ঘটনায় সাধারণ লোক বলেন, এটি একটি নাটক। এটি সরকারই করছে, কয়দিন পরপরই করবে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়তে না চাইলে সরকার আলাদাভাবে রাস্তায় নামতে পারে। আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যারা যারা নামতে চায় তারাও নামুক। ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে থেকেও আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। এজন্য গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো উন্মুক্ত করা দরকার।’
‘জাতীয় নাগরিক সংসদে’র সভানেত্রী খালেদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।