নিজস্ব
প্রতিবেদক : গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে কমান্ডো দলের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা শেষ হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেনা সদস্যরা রেস্টুরেন্টটি ঘিরে রেখেছেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার পর এই অভিযান শুরু হলে শুরুতেই নারী ও শিশুসহ পাঁচজনকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়। এ সময় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়।
অভিযানের ৪৫ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি কমান্ডো বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এ সময় রেস্টুরেন্টের ভেতরে পাঁচ জিম্মির লাশ পাওয়া যায়। মোট ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় কমান্ডো বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সোয়াত সদস্য এবং নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের সমন্বয়ে এ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়। ভোর ৫টার দিকে তাদের প্রস্তুতি শেষ হয়। সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর বড় পাঁচটি ট্রাক, ছোট জিপ ১০টি, নয়টি ট্যাংকের মতো দেখতে সাঁজোয়া যানসহ বিশাল বহর আসে। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি শতাধিক সেনাসদস্য অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর কমান্ডোরা অভিযানে নেতৃত্ব দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানও হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টের আশপাশে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান।
ইউনাইটেড হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই হাসপাতালে মোট ৩৬ জন আহত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ডিবির সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন মারা গেছেন। ভর্তি আছেন ২৪ জন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে অন্তত ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
জঙ্গি হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় দায়িত্ব স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এই ধরনের অতর্কিত হামলা চালিয়ে মানুষজনকে জিম্মি করার ঘটনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সব জিম্মির অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। জিম্মিদের মধ্যে অন্তত ২০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৩০-৩৫ জন ছিলেন।
বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা জানিয়েছেন, জিম্মিদের মধ্যে সাতজন ইতালির নাগরিক রয়েছেন।
ঘটনাস্থলের আশপাশের পুরো চার কিলোমিটার এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রেখেছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে ঢুকে এর নিয়ন্ত্রণ নেয় আট থেকে দশজনের একদল অস্ত্রধারী।