প্রি15য়আলো, নুরুল করিমঃ জীনের প্রথম
ইউরো দেখেছিলাম ২০০০ সালে । কোন ম্যাচের কথা মনে না থাকলেও ফাইনাল এর কথা ভালো মনে আছে । ফাইনাল টা ছিলো এক ধ্রুপদী ম্যাচ ।

দুই বছর আগে বিশ্ব কাপ জয় করে আসা জিদানের ফ্রান্সের সাথে তৎকালীন তিন বার চ্যাম্পিয়ন ইতালির ।
জিদানের ফ্রান্স দলে ছিলো অরি , বার্থেজ , দিদিয়ে দেশম , লিজারাজু , ডেভিড ত্রেগেজ , ব্লাক সহ তখনকার বিশ্ব জয়ী দলে সকল সদস্য ।

 

আমার প্রিয় খেলোয়াড় পাওলো মালদীনির ইতালিতে ছিলো নেস্তা , ক্যানাভারো , টট্টি , ইনজাগি , দেল পিয়েরোর মতো মহা তারকারা ।
তারায় তারায় খচিত দুই দলের ফাইনাল এর নব্বই মিনিট শেষ হয় ১-১ গোলে ড্রর মাধ্যমে । গোল্ডেন সময়ের “ডেভিড ত্রেগেজ” এর গোল্ডেন গোলে বিশ্বকাপের পর ইউরো জয়ের আনন্দে ভাসে ফ্রান্স আর মালদিনীর কান্নায় শেষ হয় আমার ইউরো !

euro-2016

২০০৪ সালে গ্রিক পুরানের এগারো জন যোদ্ধা এসে ফিগোর নেতৃত্বে সোনালী প্রজন্মের পর্তুগাল কে হারিয়ে জয় করে নিয়ে যায় ইউরো । এই তো এই বছর ইপিএল এ লিস্টার সিটি যেই কাজ টা করলো ঠিক তেমনি কাজটি করেছিলো গ্রীস !

২০০৮ ও ২০১২ সালে কুতকুত খেলতে খেলতে ব্যাক টু ব্যাক ইউরো জয়ের বিরল রেকর্ড গড়ে স্পেন ।

আজ শুরু হচ্ছে ইউরোর ১৫ তম আসর । ২৪ দলে ছয়টা গ্রুপে ভাগ হয়ে ফ্রান্সের দশ টা ভ্যানুতে খেলবে পুরো এক মাস । ছয় গ্রুপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ সহ বাকী বারো দলের মধ্যে সেরা চার দল খেলবে দ্বিতীয় রাউন্ডে । ফ্রান্স ও রোমানিয়া ম্যাচের মাধ্যমে আজ রাত একটায় পর্দা উঠবে ইউরো ২০১৬ এর ।
তারাবিহ নামাজ পড়ে ইউরো আর ফজর নামাজ পড়ে কোপা আমেরিকা ।

16

এবার কে হবে চ্যাম্পিয়ন ?

গ্রীস প্রমাণ করেছে ইউরোতে কেউ ফেভারিট নয় , তবুও দেখা যাক ।

জার্মানির সামনে রয়েছে ফ্রান্স আর স্পেনের মতো বিশ্বকাপ পরবর্তী ইউরো জিতার সুযোগ । যদিও কাজটা সহজ নয় , বাছাই পর্বে পোল্যান্ড , নর্দান আয়ারল্যান্ড এর কাছে হেরেছিলো দলটি । সেই পোল্যান্ড আছে জার্মান গ্রুপে । তবে থমাস মুলার কোনো টুর্নামেন্টে ব্যার্থ নয়, তার সাথে ন্যুয়ার লাম বোয়েটাং টনি ক্রস ওজিল দের নিয়ে গড়া জার্মান টীমটাই ফেভারিট ইউরো জয়ে ।

বলা হয় গত বিশ্বকাপে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে । কিন্তু ক্যাসিয়াস পিকে রামোস বুস্কেট মাতা ইনিয়েস্তা ফেব্রেগাস মোরাতাদের নিয়ে স্প্যানিশ টীম টানা তৃতীয় বারের মতো ইউরো জিতলে অবাক হবার কিছুই নেই । তবে ভিলার মতো একজন স্টাইকার এর অভাব শেষ করে দিতে পারে সবকিছু ।

টুর্নামেন্ট এর হট ফেভারিট হলো স্বাগতিক ফ্রান্স । স্বাগতিক হিসেবে দলটি জিতেছিল ১৯৮৪ এর ইউরো এবং ১৯৯৮ এর বিশ্বকাপ । তারুণ্যে ভরপুর দলটি তে এবার আছে লরিস পগবা মার্শাল গ্রিজম্যান মানগালা কাভাই জিরো এভরা রিভেরির মতো তারকা সব খেলোয়াড় । এবার ফাইনাল খেলবেই ফ্রান্স !

122গ্রুপ পর্বের দশ ম্যাচে দশটাই জিতে আসা ইংল্যান্ড ও রয়েছে ফেভারিট এর তালিকায় ।

কোনো বড় তারকা না থাকলেও ইতালি সেমি ফাইনাল খেলবে এটা নিশ্চিত বলা যায় ।

ইডেন হ্যাজার্ড এর সোনালী প্রজন্মের বেলজিয়াম যাবে বহু দুর।

রোনালদোর পর্তুগাল আর বেইলের ওয়েলস ঘটাতে পারে বড় আপসেট ।

জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সুইডেন যেকোনো দলের জন্য হতে পারে হুমকির কারণ ।

গ্রুপ এ-তে ফ্রান্স, রোমানিয়া, আলবেনিয়া ও সুইজারল্যান্ড।
গ্রুপ বি-তে রয়েছে ইংল্যান্ড, রাশিয়া, ওয়েলস, স্লোভাকিয়া।
গ্রুপ সি-তে বিশ্বকাপজয়ী জার্মানির সঙ্গে আছে ইউক্রেন, পোল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড।

গ্রুপ ডি-তে আছে স্পেন, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক ও ক্রোয়েশিয়া।

গ্রুপ ই-কে বলা হচ্ছে এবারের ইউরোর ডেথ গ্রুপ। চারবারের বিশ্বকাপ ও একবারের ইউরোজয়ী ইতালির সঙ্গে আছে এডেন হ্যাজার্ডের বেলজিয়াম। পিছিয়ে থাকবে না জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সুইডেন।

123

ইউরোপের মাঠে আইরিশরাও যে কাউকে চমকে দিতে পারে । গ্রুপ এফ-এ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রিয়া হাঙ্গেরি ও আইসল্যান্ড ।

চলতে থাকুক ফুটবল উৎসব !
লেখকঃ বিশিষ্ট ক্রীড়া বিষরদ এবং অধ্যাপক নীলফামারি সরকারি কলেজ ( বিসিএস শিক্ষা )।