বিশেষ রিপোর্ট, ঢাকাঃ সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক” ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরুস্কৃত হয়েছেন উপমহাদেশের অন্যতম ইলমে দ্বীন শিক্ষার প্রতিষ্ঠান পিরোজপুরের স্বরুপকাঠীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত আলীয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মোঃ সিরাজুম মুনীর।
‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬’ উপলক্ষে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে এই শিক্ষকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
মাওলানা সিরাজুম মুনীর ছারছীনা আলিয়া মাদরাসা থেকে দাখিলে ১৩ তম (১৯৯৪ সাল), আলিমে অষ্টম (১৯৯৬ সাল), ফাযিলে ষষ্ঠ (১৯৯৮ সাল) এবং কামিলে তৃতীয় (২০০০ সাল) স্থান অধিকার করেন। ২০০৫ সালে একই মাদরাসা থেকে আরবি বিভাগে প্রথম হন তিনি।
উল্লেখ্য, ছারছীনা মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরুর প্রাক্কালেই তিনি ” মাজার এলাকা ” নামক চারতলা বিশিষ্ট নয়নাভিরাম ছাত্রাবাসের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি উক্ত ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন।আকারে ক্ষুদ্র কুরআন শরীফ, কালো পাগড়ী, সাদা তাসবীহ, পাঞ্জাবীর পকেটে জয়তুনের মেসওয়াক, সবুজ রঙয়ের জায়নামায ছিল তার প্রতিটি ক্ষণের সঙ্গী।
মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ছাত্রদের নিয়ে সাপ্তাহিক তাক্বরার ( গ্রুপ স্টাডি / সন্মিলিত পাঠদান ) আয়োজন করার মাধ্যমে ছাত্রদের আরবী ব্যাকরণে পারদর্শী করে তুলতে তার তুলনা ছিল অতুলনীয়। উনি ছাত্রদের আরবী ব্যাকরণের প্রথমধাপ মিজান-মুনশায়েব-পাঞ্জেগাঞ্জ কিতাবাদি মুখস্ত করতে নানান কৌশল অবলম্বন করতেন / করে যাচ্ছেন।
তার ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম একজন- আধুনিক ছড়ার ছন্দের যাদুকর হিসেবে খ্যাত কবি জিয়া হক বলেন; ” নাজিরপুরী হুজুরের মতো দক্ষ এবং আদর্শ শিক্ষক যে কোন দেশের জন্যই মহা-মূল্যবান সম্পদ “।
জেনে রাখা ভালো যে, উনি মাদরাসাতে ” নাজিরপুরী হুজুর ” নামেই বেশ পরিচিত।
এদিকে, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বক্তব্য রাখেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন ক্যটাগারিতে ৮৯ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।