নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে শিক্ষকের প্রতি স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রয়োগ করা শাস্তিকে ‘সাধুবাদ’ এবং ওই শিক্ষকের ফাঁসির দাবী জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ তাহরিকে খতমে নবুয়্যাত। বুধবার (১৮ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে উল্লেখিত শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্ত’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের শ্লোগানের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল করেছে খতমে নবুয়্যাত সংগঠন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব প্রদান করেন, জৈনপুরী পীর ও তাহরিকে খতমে নবুয়্যাত এর আমীর ড. মুফতি এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দল ও দেশের চেয়ে ঈমান বড়। নাস্তিক ও কুলাঙ্গার শ্যামলকান্তি মহান আল্লাহ এবং তার রসূল হুজুরে পাক হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) কে নিয়ে কটূক্তি মূলক কথা এবং বেয়াদবী করেছে। তার শাস্তি আরো বেশি হওয়া উচিত ছিলো। সে শুধু ধর্মদ্রহী-ই নয়, রাষ্ট্রদ্রহীও। তার এই দেশে থাকার কোন অধিকার নেই।
বক্তারা আরো বলেন, সাংসদ সেলিম ওসমানের কোন ভয় নেই। তিনি ইসলামের পক্ষে জিহাদ করেছেন। আমরা তার পাশে আছি। কারণ এটা কোন এমপি ও সিটি নিয়ে দ্বন্দ নয়, এটা মুসলমান ও নাস্তিক নিয়ে দ্বন্দ। তাই আমরা মুসলিম জনতা তার সাথে আছি।
এদিকে মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জৈনপুরী পীর ও তাহরিকে খতমে নবুয়্যাত এর আমীর ড. মুফতি এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী বলেন, সাংসদ সেলিম ওসমানকে মানুষিক ভাবে আঘাত করা হয়েছে। দেশের সকল বাম পন্থি ও তথা কথিত মানবাধিকার সংস্থারা একত্রিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
সাংবাদিকরা ত আরো প্রশ্ন করে বলেন, ‘সেলিম ওসমান এর আগে বলেছিলেন যে, এই ঘটনাটা একটি ষড়যন্ত্র ছিলো। এ এটা আমি পরে বুঝতে পেরেছি।’ এর উত্তরে তিনি বলেন, “সারা দেশের নিউজ মিডিয়া ও তথা কথিত মানবাধিকার সংস্থা তার বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার পর হয়তো সেলিম ওসমান মানুষিক ভাবে এটু দূর্বল হয়ে পরেছেন। তাই তিনি পরে কি বললেন, সেটা আমাদের কাছে অতটা ধর্তব্য না।
তিনি আরো বলেন, সেই শিক্ষক যদি এ ধরনের কুফুরী না করে থাকেন, তাহলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করুক এবং তার পক্ষে সাক্ষী উপস্থিত করুক।
এদিকে তদন্ত কমিটির চুড়ান্ত প্রতিবেদনের পূর্বে কোন ব্যাক্তিকে নির্দিষ্ট ভাবে দোষীসাব্যস্ত করাটা যৌক্তিক কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে জৈনপুরী পীর মুফতি এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী বলেন, তদন্ত কমিটি তদন্ত করতে পারবে। তবে তদন্ত কমিটি গ্রহণ যোগ্য ব্যাক্তিদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে কিনা সেটাও কিন্তু দেখতে হবে।
তদন্ত কমিটির মধ্যে আমাদের সর্ত হলো, এই কমিটিতে দেশের একজন নির্ভর যোগ্য শীর্ষ স্থানীয় আলেম থাকতে হবে, অবসর প্রাপ্ত একজন বিচারপতি থাকতে হবে এবং নারায়ণগঞ্জের যেকোন একজন এমপিকে থাকতে হবে। তারপর তদন্তে কি প্রমানিত হয় সেটা দেখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর যদি সেই তদন্তে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত হয় তাকে ফাঁসির কাঠগড়ায় নিতে হবে।
তবে অভিযোগ প্রমানিত যদি না হয়? এই প্রশ্নের উত্তরের আগেই তার উপস্থিত বিক্ষোভ কারীরা উত্তপ্ত হয়ে উঠেন। এবং পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি না হয়ে সমাবেশ স্থল ত্যাগ করেন।